রাতে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের নির্দেশ

শিক্ষার্থীদের রাতে পড়াশোনায় মনোযোগী করার পাশাপাশি মাদকবিরোধী প্রচার জোরদার এবং ইভটিজিং ও ‘র্যাগ ডে’র নামে বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। একইসঙ্গে এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অধিদপ্তরের আওতাধীন অঞ্চলের সব জেলা ও উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য একত্র করে নির্ধারিত ছকে পাঠাতে হবে। গত ২৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তৈরি মাদকবিরোধী প্রামাণ্যচিত্র ও থিম সং প্রদর্শন এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।
এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইভটিজিং প্রতিরোধ এবং ‘র্যাগ ডে’র নামে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের রাতে পড়াশোনায় মনোযোগী করার বিষয়েও সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশনা রয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে, তা জানতে চেয়েছে মাউশি। প্রতিবেদনে মাদকবিরোধী প্রামাণ্যচিত্র ও থিম সং প্রদর্শন, প্রচারসামগ্রী বিতরণ, ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি গঠন, সভা-সেমিনার ও সচেতনতামূলক প্রচার এবং রাতে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে নেওয়া কার্যক্রমের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জেলা ও উপজেলাভিত্তিক তথ্য একত্র করে বাস্তবায়নের অগ্রগতি নির্ধারিত ছকে উপস্থাপন করতে হবে। প্রতিবেদন পাঠানোর শেষ সময় ২৬ অক্টোবর। এজন্য [email protected] ঠিকানায় ই-মেইল করতে বলা হয়েছে। মাউশির এ নির্দেশনা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রামাণ্যচিত্র ও থিম সং শিক্ষার্থীদের দেখানো এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনে তাদের সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ইভটিজিং ও র্যাগ ডে’র নামে সংঘটিত বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে।
রাতে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর বিষয়টি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মাউশি চায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এসব বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং তার অগ্রগতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাবে। এতে করে শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।