{"total":1230,"limit":20,"offset":0,"next_offset":20,"items":[{"id":1286,"external_id":"news-1286","title":"উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ২৯ শতাংশ বেকার, অর্ধেকের যোগ্যতা কাজে লাগছে না: আইএমএফ","description":"আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রকাশিত ‘রিজিওনাল ইকোনমিক আউটলুক: এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রায় ২৯ শতাংশ বেকার। প্রতিবেদনটি গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত হয় এবং এতে ২ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এশিয়ার কয়েকটি উদীয়মান অর্থনীতিতে কলেজ বা সমপর্যায়ের উচ্চশিক্ষা নেওয়া তরুণদের বেকারত্ব প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে সদ্য স্নাতক হওয়া তরুণ-তরুণীরা কর্মবাজারে প্রবেশের সময় বেশি সমস্যায় পড়ছেন।\n\nশুধু চাকরি না পাওয়াই সমস্যা নয়, চাকরি পেলেও অনেকের কাজ তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে মিলছে না। আইএমএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের প্রায় ৫০ শতাংশ এমন চাকরিতে আছেন, যে কাজের জন্য তাঁদের পর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ তাঁরা নিজেদের যোগ্যতার তুলনায় কম দক্ষতার কাজে যুক্ত। আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাটির মতে, চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা ও নিয়োগদাতাদের চাহিদার মধ্যে অমিল বেকারত্বের অন্যতম কারণ।\n\nবিশেষ করে সদ্য স্নাতক হওয়া তরুণ-তরুণীরা কর্মবাজারে প্রবেশের সময় এ সমস্যায় বেশি পড়েন। নিয়োগদাতারা যে ধরনের দক্ষতা চান, অনেক চাকরিপ্রার্থীর তা নেই। ফলে উপযুক্ত চাকরি পেতে তাঁদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। একপর্যায়ে অনেকে এমন কাজ করতে বাধ্য হন, যেখানে তাঁদের অর্জিত শিক্ষা ও দক্ষতা পুরোপুরি কাজে লাগে না। প্রতিবেদনে শ্রমবাজারে অনানুষ্ঠানিক কাজের আধিক্যের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।\n\nআইএমএফ বলছে, এশিয়ার অনেক দেশে কৃষিসহ অনানুষ্ঠানিক খাতে চাকরির নিরাপত্তা কম। আনুষ্ঠানিক চুক্তি ও পেশাগত উন্নতির সুযোগও সীমিত। তাই শুধু প্রচলিত বেকারত্বের হার দিয়ে শ্রমবাজারের পুরো দুর্বলতা বোঝা যায় না। বাংলাদেশের কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়বে। আইএমএফের মতে, তরুণ জনসংখ্যাকে ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এটি অর্থনীতির জন্য বড় সুযোগ হতে পারে।\n\nএর জন্য তরুণদের উৎপাদনশীল ও ভালো মানের চাকরিতে যুক্ত করতে হবে। বিশেষ করে উৎপাদন ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানো প্রয়োজন। যথেষ্ট ভালো চাকরি তৈরি না হলে এবং শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি করতে না পারলে একটি পুরো প্রজন্ম হতাশ হয়ে যেতে পারে। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এই চ্যালেঞ্জ আরও বাড়াচ্ছে। ১৯টি এশীয় অর্থনীতির ৪ কোটি অনলাইন চাকরির বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করে আইএমএফ দেখেছে, এআইয়ের প্রভাব বেশি এমন পেশায় কর্মীর চাহিদা তুলনামূলকভাবে প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে।\n\nএকই সময়ে এআই-সম্পর্কিত নতুন দক্ষতা আছে, এমন কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থাটির মতে, যেসব অর্থনীতি এখন পর্যন্ত এআইয়ের প্রভাবে তুলনামূলক কম আক্রান্ত, তারাও ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে। কারণ উৎপাদন ও সেবা খাতে ভবিষ্যতে যেসব নতুন চাকরি তৈরি করতে হবে, তার অনেকগুলোই এআইয়ের প্রভাবে বদলে যেতে পারে। শ্রমবাজারের এই দুর্বলতার পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়েছে আইএমএফ। অথচ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে, এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। প্রযুক্তি ও এআইকেন্দ্রিক উত্থানের সুবিধা পাওয়া দেশগুলোর পূর্বাভাস বাড়লেও নিম্ন আয়ের অর্থনীতিগুলো উচ্চ জ্বালানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির বেশি চাপের মুখে রয়েছে।","description_word_count":423,"url":"https://prelive.starplaybd.com/news/1286","json_url":"https://prelive.starplaybd.com/api/news/1286.json","image":"https://prelive.starplaybd.com/media/e328d623dc686d85b6c0b3a64e48b8514ce473ab757b11b0c5af9996e1f5e2cb.jpg","image_status":"stored","categories":["bangladesh"],"published_at":"2026-10-16T17:56:11.000Z","collected_at":"2026-10-16T18:01:00Z","rewritten_at":"2026-10-16T18:01:08Z","variants":{"balanced":{"title":"উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ২৯ শতাংশ বেকার, অর্ধেকের যোগ্যতা কাজে লাগছে না: আইএমএফ","body":"আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রকাশিত ‘রিজিওনাল ইকোনমিক আউটলুক: এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রায় ২৯ শতাংশ বেকার। প্রতিবেদনটি গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত হয় এবং এতে ২ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এশিয়ার কয়েকটি উদীয়মান অর্থনীতিতে কলেজ বা সমপর্যায়ের উচ্চশিক্ষা নেওয়া তরুণদের বেকারত্ব প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে সদ্য স্নাতক হওয়া তরুণ-তরুণীরা কর্মবাজারে প্রবেশের সময় বেশি সমস্যায় পড়ছেন।\n\nশুধু চাকরি না পাওয়াই সমস্যা নয়, চাকরি পেলেও অনেকের কাজ তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে মিলছে না। আইএমএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের প্রায় ৫০ শতাংশ এমন চাকরিতে আছেন, যে কাজের জন্য তাঁদের পর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ তাঁরা নিজেদের যোগ্যতার তুলনায় কম দক্ষতার কাজে যুক্ত। আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাটির মতে, চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা ও নিয়োগদাতাদের চাহিদার মধ্যে অমিল বেকারত্বের অন্যতম কারণ।\n\nবিশেষ করে সদ্য স্নাতক হওয়া তরুণ-তরুণীরা কর্মবাজারে প্রবেশের সময় এ সমস্যায় বেশি পড়েন। নিয়োগদাতারা যে ধরনের দক্ষতা চান, অনেক চাকরিপ্রার্থীর তা নেই। ফলে উপযুক্ত চাকরি পেতে তাঁদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। একপর্যায়ে অনেকে এমন কাজ করতে বাধ্য হন, যেখানে তাঁদের অর্জিত শিক্ষা ও দক্ষতা পুরোপুরি কাজে লাগে না। প্রতিবেদনে শ্রমবাজারে অনানুষ্ঠানিক কাজের আধিক্যের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।\n\nআইএমএফ বলছে, এশিয়ার অনেক দেশে কৃষিসহ অনানুষ্ঠানিক খাতে চাকরির নিরাপত্তা কম। আনুষ্ঠানিক চুক্তি ও পেশাগত উন্নতির সুযোগও সীমিত। তাই শুধু প্রচলিত বেকারত্বের হার দিয়ে শ্রমবাজারের পুরো দুর্বলতা বোঝা যায় না। বাংলাদেশের কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়বে। আইএমএফের মতে, তরুণ জনসংখ্যাকে ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এটি অর্থনীতির জন্য বড় সুযোগ হতে পারে।\n\nএর জন্য তরুণদের উৎপাদনশীল ও ভালো মানের চাকরিতে যুক্ত করতে হবে। বিশেষ করে উৎপাদন ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানো প্রয়োজন। যথেষ্ট ভালো চাকরি তৈরি না হলে এবং শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি করতে না পারলে একটি পুরো প্রজন্ম হতাশ হয়ে যেতে পারে। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এই চ্যালেঞ্জ আরও বাড়াচ্ছে। ১৯টি এশীয় অর্থনীতির ৪ কোটি অনলাইন চাকরির বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করে আইএমএফ দেখেছে, এআইয়ের প্রভাব বেশি এমন পেশায় কর্মীর চাহিদা তুলনামূলকভাবে প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে।\n\nএকই সময়ে এআই-সম্পর্কিত নতুন দক্ষতা আছে, এমন কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থাটির মতে, যেসব অর্থনীতি এখন পর্যন্ত এআইয়ের প্রভাবে তুলনামূলক কম আক্রান্ত, তারাও ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে। কারণ উৎপাদন ও সেবা খাতে ভবিষ্যতে যেসব নতুন চাকরি তৈরি করতে হবে, তার অনেকগুলোই এআইয়ের প্রভাবে বদলে যেতে পারে। শ্রমবাজারের এই দুর্বলতার পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়েছে আইএমএফ। অথচ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে, এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। প্রযুক্তি ও এআইকেন্দ্রিক উত্থানের সুবিধা পাওয়া দেশগুলোর পূর্বাভাস বাড়লেও নিম্ন আয়ের অর্থনীতিগুলো উচ্চ জ্বালানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির বেশি চাপের মুখে রয়েছে।"}}},{"id":1287,"external_id":"news-1287","title":"কুমিল্লায় জমি বিরোধে যুবদল কর্মী নিহত, অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর","description":"কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ছত্রখিল এলাকায় গোমতী নদীর উত্তর পাড়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে যুবদল কর্মী আবু কাউছারকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি কুমিল্লা নগরের কাপ্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মাসুমও আহত হন।\n\nনিহত আবু কাউছারের বন্ধু শামীম হোসেনসহ প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, তৌহিদুল ইসলাম ওরফে তৌহিদের নেতৃত্বে কয়েকজন কাউছারের ওপর হামলা চালান। তৌহিদুল আদর্শ সদর উপজেলার নন্দিরবাজার এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে। জানা গেছে, শামীম হোসেনের সঙ্গে তৌহিদুল ও তানজিলের ছত্রখিল এলাকার একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। শামীমের দাবি, তিনি জমিটি কিনেছিলেন। জমি দখলে বাধা দেওয়া হচ্ছিল তাদের।\n\nএ নিয়ে বিরোধের কারণে শুক্রবার তিনি কয়েকজনকে নিয়ে সেটি দেখতে যান। এ সময় তৌহিদুলের নেতৃত্বে তাঁদের ওপর হামলা হয়। হামলাকারীরা কাউছারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন। পরে তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।\n\nকুমিল্লা মহানগর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান (বিপ্লব) বলেন, আবু কাউছার আগে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য ছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে কাউছার নগরের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে তাঁর কোনো পদ-পদবি ছিল না। কাউছারের বড় ভাই কবির হোসেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসভাপতি।\n\nখলিলুর রহমানের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়া তৌহিদুল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন বলে দাবি করেন খলিলুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তৌহিদুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয় এবং ওই মামলায় ঢাকায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি ছয় মাস কারাগারে ছিলেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে তৌহিদুল ও তাঁর পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তাঁরা এলাকায় নেই।\n\nপ্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাউছার নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকেলে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে শতাধিক লোক নন্দিরবাজার এলাকায় জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা তৌহিদুলের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। পরে বাড়ির কয়েকটি কক্ষে আগুন দেওয়া হয়। এতে ঘরের আসবাবসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। বাড়ির জানালার কাচসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করা হয়। একই সময়ে বাড়ির সামনে থাকা একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও ভাঙচুর চালানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুলিশের উপস্থিতিতে বাড়ির লোকজনও আগুন নেভান। পরে কুমিল্লা থেকে পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য সেখানে গিয়ে অবস্থান নেন। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, বিকেলে একদল বিক্ষুব্ধ লোক নন্দিরবাজার এলাকার তৌহিদুলের বাড়িতে ভাঙচুর চালান এবং অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেন। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে ওসি বলেন, ঘটনার সময় সেখানে থাকা লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, তৌহিদুলসহ কয়েকজন এ ঘটনায় জড়িত। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।","description_word_count":425,"url":"https://prelive.starplaybd.com/news/1287","json_url":"https://prelive.starplaybd.com/api/news/1287.json","image":"https://prelive.starplaybd.com/media/dfec4130e939a0ca04e77b1dde01bf27cfd0f195c91371bd130bddf3219e1c87.jpg","image_status":"stored","categories":["bangladesh"],"published_at":"2026-10-16T17:49:49.000Z","collected_at":"2026-10-16T18:01:11Z","rewritten_at":"2026-10-16T18:01:19Z","variants":{"balanced":{"title":"কুমিল্লায় জমি বিরোধে যুবদল কর্মী নিহত, অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর","body":"কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ছত্রখিল এলাকায় গোমতী নদীর উত্তর পাড়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে যুবদল কর্মী আবু কাউছারকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি কুমিল্লা নগরের কাপ্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মাসুমও আহত হন।\n\nনিহত আবু কাউছারের বন্ধু শামীম হোসেনসহ প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, তৌহিদুল ইসলাম ওরফে তৌহিদের নেতৃত্বে কয়েকজন কাউছারের ওপর হামলা চালান। তৌহিদুল আদর্শ সদর উপজেলার নন্দিরবাজার এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে। জানা গেছে, শামীম হোসেনের সঙ্গে তৌহিদুল ও তানজিলের ছত্রখিল এলাকার একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। শামীমের দাবি, তিনি জমিটি কিনেছিলেন। জমি দখলে বাধা দেওয়া হচ্ছিল তাদের।\n\nএ নিয়ে বিরোধের কারণে শুক্রবার তিনি কয়েকজনকে নিয়ে সেটি দেখতে যান। এ সময় তৌহিদুলের নেতৃত্বে তাঁদের ওপর হামলা হয়। হামলাকারীরা কাউছারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন। পরে তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।\n\nকুমিল্লা মহানগর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান (বিপ্লব) বলেন, আবু কাউছার আগে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য ছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে কাউছার নগরের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে তাঁর কোনো পদ-পদবি ছিল না। কাউছারের বড় ভাই কবির হোসেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসভাপতি।\n\nখলিলুর রহমানের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়া তৌহিদুল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন বলে দাবি করেন খলিলুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তৌহিদুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয় এবং ওই মামলায় ঢাকায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি ছয় মাস কারাগারে ছিলেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে তৌহিদুল ও তাঁর পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তাঁরা এলাকায় নেই।\n\nপ্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাউছার নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকেলে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে শতাধিক লোক নন্দিরবাজার এলাকায় জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা তৌহিদুলের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। পরে বাড়ির কয়েকটি কক্ষে আগুন দেওয়া হয়। এতে ঘরের আসবাবসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। বাড়ির জানালার কাচসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করা হয়। একই সময়ে বাড়ির সামনে থাকা একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও ভাঙচুর চালানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুলিশের উপস্থিতিতে বাড়ির লোকজনও আগুন নেভান। পরে কুমিল্লা থেকে পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য সেখানে গিয়ে অবস্থান নেন। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, বিকেলে একদল বিক্ষুব্ধ লোক নন্দিরবাজার এলাকার তৌহিদুলের বাড়িতে ভাঙচুর চালান এবং অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেন। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে ওসি বলেন, ঘটনার সময় সেখানে থাকা লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, তৌহিদুলসহ কয়েকজন এ ঘটনায় জড়িত। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।"}}},{"id":1288,"external_id":"news-1288","title":"জঙ্গল সলিমপুরে উচ্ছেদের গুজবে বিক্ষোভ, পুলিশ-বিজিবির সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা","description":"চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে উচ্ছেদের গুজব ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে আলীনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে পুলিশ তাঁদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া প্রায় দেড় মিনিটের একটি ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের বলতে শোনা যায়, ‘নিজের টাকা দিয়ে জায়গা কিনেছি, সেই জায়গা ফেরত চাই।’ ভিডিওতে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লাঠি হাতে বিক্ষোভকারীদের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।\n\nএর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলতে যান চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম। এ সময় নারীসহ একদল বাসিন্দা প্রচারপত্র হাতে সেখানে জড়ো হন। সরকারি স্থাপনা নির্মাণের জন্য তাঁদের কেনা জমি ও বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তাঁরা প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীরা নিজেদের কেনা জমি ফেরত চেয়ে স্লোগান দেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং পরে পুলিশ বাসিন্দাদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।\n\nজানতে চাইলে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার সেখানে যাওয়া হয়। তবে সন্ত্রাসী মো. ইয়াসিনের লোকজন এলাকায় গুজব ছড়ান যে বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করতে সরকারি লোকজন এসেছেন। এ গুজবে বিশ্বাস করে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ শুরু করেন। পুলিশ সুপার আরও বলেন, বাসিন্দাদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়েছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি সরকারি প্রয়োজনে অধিগ্রহণ করা হলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আর যাঁরা খাসজমিতে বসবাস করছেন, তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না করে সরকার উচ্ছেদ করবে না। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে বলে দাবি করেন তিনি।\n\n৮ অক্টোবর সচিবালয়ে জঙ্গল সলিমপুরের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, রাজশাহীর সারদার আদলে সেখানে একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই এলাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ জন্য ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সেখানে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) স্থাপনা নির্মাণের জন্য জায়গা নেওয়ার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।\n\nস্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং নিজের টাকা দিয়ে জমি কিনেছেন। সরকারি স্থাপনা নির্মাণের জন্য তাদের উচ্ছেদ করা হবে—এমন গুজবে তারা আতঙ্কিত হয়ে প্রতিবাদে নামেন। পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, গুজবটি ছড়িয়েছেন সন্ত্রাসী মো. ইয়াসিনের লোকজন। তবে বিক্ষোভের সময় কেউ হতাহত হননি এবং পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।\n\nসরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, বিজিবি, এসআরবি ও এপিবিএন স্থাপনা নির্মিত হবে। এ জন্য ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ৮ অক্টোবর সচিবালয়ে সভা শেষে এসব তথ্য জানান। বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করা হলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং খাসজমিতে বসবাসকারীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা হবে না।","description_word_count":469,"url":"https://prelive.starplaybd.com/news/1288","json_url":"https://prelive.starplaybd.com/api/news/1288.json","image":"https://prelive.starplaybd.com/media/598ad5f57380afa2f9951ff4ca27f27be91197de167aa7e0c47eb5f94bb4fc86.jpg","image_status":"stored","categories":["bangladesh"],"published_at":"2026-10-16T17:27:59.000Z","collected_at":"2026-10-16T18:01:22Z","rewritten_at":"2026-10-16T18:01:31Z","variants":{"balanced":{"title":"জঙ্গল সলিমপুরে উচ্ছেদের গুজবে বিক্ষোভ, পুলিশ-বিজিবির সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা","body":"চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে উচ্ছেদের গুজব ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে আলীনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে পুলিশ তাঁদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া প্রায় দেড় মিনিটের একটি ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের বলতে শোনা যায়, ‘নিজের টাকা দিয়ে জায়গা কিনেছি, সেই জায়গা ফেরত চাই।’ ভিডিওতে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লাঠি হাতে বিক্ষোভকারীদের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।\n\nএর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলতে যান চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম। এ সময় নারীসহ একদল বাসিন্দা প্রচারপত্র হাতে সেখানে জড়ো হন। সরকারি স্থাপনা নির্মাণের জন্য তাঁদের কেনা জমি ও বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তাঁরা প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীরা নিজেদের কেনা জমি ফেরত চেয়ে স্লোগান দেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং পরে পুলিশ বাসিন্দাদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।\n\nজানতে চাইলে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার সেখানে যাওয়া হয়। তবে সন্ত্রাসী মো. ইয়াসিনের লোকজন এলাকায় গুজব ছড়ান যে বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করতে সরকারি লোকজন এসেছেন। এ গুজবে বিশ্বাস করে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ শুরু করেন। পুলিশ সুপার আরও বলেন, বাসিন্দাদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়েছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি সরকারি প্রয়োজনে অধিগ্রহণ করা হলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আর যাঁরা খাসজমিতে বসবাস করছেন, তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না করে সরকার উচ্ছেদ করবে না। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে বলে দাবি করেন তিনি।\n\n৮ অক্টোবর সচিবালয়ে জঙ্গল সলিমপুরের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, রাজশাহীর সারদার আদলে সেখানে একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই এলাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ জন্য ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সেখানে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) স্থাপনা নির্মাণের জন্য জায়গা নেওয়ার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।\n\nস্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং নিজের টাকা দিয়ে জমি কিনেছেন। সরকারি স্থাপনা নির্মাণের জন্য তাদের উচ্ছেদ করা হবে—এমন গুজবে তারা আতঙ্কিত হয়ে প্রতিবাদে নামেন। পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, গুজবটি ছড়িয়েছেন সন্ত্রাসী মো. ইয়াসিনের লোকজন। তবে বিক্ষোভের সময় কেউ হতাহত হননি এবং পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।\n\nসরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, বিজিবি, এসআরবি ও এপিবিএন স্থাপনা নির্মিত হবে। এ জন্য ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ৮ অক্টোবর সচিবালয়ে সভা শেষে এসব তথ্য জানান। বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করা হলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং খাসজমিতে বসবাসকারীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা হবে না।"}}},{"id":1290,"external_id":"news-1290","title":"হিন্দুদের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার দরকার নেই, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী","description":"রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার প্রয়োজন নেই। শুক্রবার বিকেলে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যে সময়ে তাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে, সেই সময়কে বিবেচনায় নিয়ে তাদেরই সমর্থন জানানো উচিত। তিনি আরও বলেন, আপনারা আপনাদের বিবেকের কাছেই দায়ী থাকবেন। যে সময় সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা ভোগ করবেন, সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাবেন, সর্বোচ্চসংখ্যক ছুটির দিন পাবেন এবং সর্বোচ্চ আনন্দ ভোগ করবেন, সেখানে আপনাদের সর্বোচ্চ সমর্থনও থাকবে বলে আমরা আশা করতে পারি।\n\nবিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এবার সংখ্যার দিক থেকে সর্বোচ্চ পূজামণ্ডপ, সর্বোচ্চ বরাদ্দ, সর্বোচ্চ ছুটি এবং সর্বোচ্চ আনন্দ উৎসব হয়েছে। ভোটও হয়েছে সর্বোচ্চ, তবে আবারও হবে। শেষের কথাটি রাজনৈতিক, আপনারা সবাই বুঝে গেছেন। অতীতে অনেকে হিন্দুদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আপনারা নিজেরাই বিচার করবেন কোন সময়ে, কোন গণতান্ত্রিক সময়ে তাদের সকল গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে। বিচার আপনাদের।\n\nস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিজস্ব বিশ্বাস, রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠান রয়েছে, যা তাদের হৃদয়ের খুব কাছের। তাই প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীর উচিত অন্য ধর্মের মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। সরকার এই নীতিতে বিশ্বাস করে। তিনি বলেন, আগামী বছরগুলোতেও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ শারদীয় দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় উৎসব যেন স্বাধীনভাবে, সুন্দরভাবে ও মহা আনন্দে উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য সরকার সব সময় সহযোগিতা করবে।\n\nবনানী পূজামণ্ডপের আয়োজনের প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আয়োজকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি জানতে পেরেছেন অনেকে এই মণ্ডপকে দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ পূজামণ্ডপ বলে থাকেন। দেশীয় সংস্কৃতি, উপাদান, আবহ ও নকশায় যেভাবে এটি সাজানো হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি আয়োজকসহ সবার মঙ্গল, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের প্রতিনিধিরা।\n\nঅনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, আজকে পুরো দেশে উদযাপন হচ্ছে। এই উদযাপনে আমাদের দুর্গা মা মনে করিয়ে দেয় যে সবচেয়ে কঠিন অন্ধকার রাতের পরে আলোর জয় হয়। এই জয় অনেক দিন ধরে আঁধার রাজনৈতিক সময় কাটিয়ে আমরা সবাই বাংলাদেশি হিসেবে জয়ী হয়েছি, দেশকে উদ্ধার করেছি। বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির বলেন, দুর্গাপূজার মূল বিষয় মা দুর্গা ১০টি হাত দিয়ে অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য দূর করেন। বাংলাদেশ পুলিশও এই একই কাজ করে। আমরা চাই দেশে শান্তি।\n\nঅনুষ্ঠানে নেপাল, ভ্যাটিকান, সুইডেন, নরওয়ে, ক্যামেরুনসহ ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরাও দুর্গাপূজা উদযাপনে নিজেদের অনুভূতি তুলে ধরেন। কেউ কেউ বাংলায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বনানী ও গুলশান সোসাইটির সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য ও উপস্থিতির মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার সুরক্ষার বার্তা আরও জোরালো হলো।","description_word_count":409,"url":"https://prelive.starplaybd.com/news/1290","json_url":"https://prelive.starplaybd.com/api/news/1290.json","image":"https://prelive.starplaybd.com/media/fc220257c1e0f391cd903e9a76c704e64565cea077e905ac86a83ee1976e0974.jpg","image_status":"stored","categories":["politics"],"published_at":"2026-10-16T17:25:45.000Z","collected_at":"2026-10-16T18:01:50Z","rewritten_at":"2026-10-16T18:01:59Z","variants":{"balanced":{"title":"হিন্দুদের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার দরকার নেই, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী","body":"রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার প্রয়োজন নেই। শুক্রবার বিকেলে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যে সময়ে তাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে, সেই সময়কে বিবেচনায় নিয়ে তাদেরই সমর্থন জানানো উচিত। তিনি আরও বলেন, আপনারা আপনাদের বিবেকের কাছেই দায়ী থাকবেন। যে সময় সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা ভোগ করবেন, সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাবেন, সর্বোচ্চসংখ্যক ছুটির দিন পাবেন এবং সর্বোচ্চ আনন্দ ভোগ করবেন, সেখানে আপনাদের সর্বোচ্চ সমর্থনও থাকবে বলে আমরা আশা করতে পারি।\n\nবিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এবার সংখ্যার দিক থেকে সর্বোচ্চ পূজামণ্ডপ, সর্বোচ্চ বরাদ্দ, সর্বোচ্চ ছুটি এবং সর্বোচ্চ আনন্দ উৎসব হয়েছে। ভোটও হয়েছে সর্বোচ্চ, তবে আবারও হবে। শেষের কথাটি রাজনৈতিক, আপনারা সবাই বুঝে গেছেন। অতীতে অনেকে হিন্দুদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আপনারা নিজেরাই বিচার করবেন কোন সময়ে, কোন গণতান্ত্রিক সময়ে তাদের সকল গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে। বিচার আপনাদের।\n\nস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিজস্ব বিশ্বাস, রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠান রয়েছে, যা তাদের হৃদয়ের খুব কাছের। তাই প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীর উচিত অন্য ধর্মের মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। সরকার এই নীতিতে বিশ্বাস করে। তিনি বলেন, আগামী বছরগুলোতেও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ শারদীয় দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় উৎসব যেন স্বাধীনভাবে, সুন্দরভাবে ও মহা আনন্দে উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য সরকার সব সময় সহযোগিতা করবে।\n\nবনানী পূজামণ্ডপের আয়োজনের প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আয়োজকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি জানতে পেরেছেন অনেকে এই মণ্ডপকে দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ পূজামণ্ডপ বলে থাকেন। দেশীয় সংস্কৃতি, উপাদান, আবহ ও নকশায় যেভাবে এটি সাজানো হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি আয়োজকসহ সবার মঙ্গল, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের প্রতিনিধিরা।\n\nঅনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, আজকে পুরো দেশে উদযাপন হচ্ছে। এই উদযাপনে আমাদের দুর্গা মা মনে করিয়ে দেয় যে সবচেয়ে কঠিন অন্ধকার রাতের পরে আলোর জয় হয়। এই জয় অনেক দিন ধরে আঁধার রাজনৈতিক সময় কাটিয়ে আমরা সবাই বাংলাদেশি হিসেবে জয়ী হয়েছি, দেশকে উদ্ধার করেছি। বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির বলেন, দুর্গাপূজার মূল বিষয় মা দুর্গা ১০টি হাত দিয়ে অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য দূর করেন। বাংলাদেশ পুলিশও এই একই কাজ করে। আমরা চাই দেশে শান্তি।\n\nঅনুষ্ঠানে নেপাল, ভ্যাটিকান, সুইডেন, নরওয়ে, ক্যামেরুনসহ ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরাও দুর্গাপূজা উদযাপনে নিজেদের অনুভূতি তুলে ধরেন। কেউ কেউ বাংলায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বনানী ও গুলশান সোসাইটির সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য ও উপস্থিতির মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার সুরক্ষার বার্তা আরও জোরালো হলো।"}}},{"id":1280,"external_id":"news-1280","title":"রাজবাড়ীতে মোটরসাইকেল আরোহীদের গুলিতে যুবক নিহত","description":"রাজবাড়ী শহরে পিয়ারুল সরদার (৩০) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার রাতে শহরের সজ্জনকান্দা মধ্যপাড়া মসজিদসংলগ্ন রাজনের দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত পিয়ারুল সরদার রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বড় মুরারিপুর গ্রামের হারুন সরদারের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র, হত্যা, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে সদর থানায় ১৪টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।\n\nপুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত পৌনে আটটার দিকে সজ্জনকান্দা মধ্যপাড়া মসজিদের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন পিয়ারুল। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে দুটি গুলি ছোড়েন। তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। গুলিবিদ্ধ পিয়ারুলকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বুকে দুটি গুলির ক্ষত ছিল।\n\nরাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক অনিক কুমার মণ্ডল বলেন, রাত ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে পিয়ারুলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। দ্রুত ইসিজি করার পর দেখা যায়, তিনি মারা গেছেন। এ অবস্থায় তাঁর স্বজনেরা তাঁকে ফরিদপুরে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।\n\nপুলিশ জানায়, পিয়ারুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, হত্যা, মাদক, ডাকাতি ও দস্যুতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৪টি মামলা রয়েছে। তাঁকে একাধিকবার গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। সর্বশেষ চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি এলাকায় অবস্থান করছিলেন।\n\nরাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন রাত পৌনে ১০টার দিকে মুঠোফোনে বলেন, পিয়ারুল সরদার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে গুলি করেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কয়েকটি দল কাজ করছে। হত্যার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।\n\nএ ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় সাধারণত লোকজনের চলাচল থাকে। হঠাৎ করে এমন গুলির ঘটনায় তারা আতঙ্কিত। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করেছে। নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।","description_word_count":318,"url":"https://prelive.starplaybd.com/news/1280","json_url":"https://prelive.starplaybd.com/api/news/1280.json","image":"https://prelive.starplaybd.com/media/3ea670ce44ab4fdf845c63268cd10cf3d37acc07bf309469c1ac376eb6335371.jpg","image_status":"stored","categories":["bangladesh"],"published_at":"2026-10-16T17:00:07.000Z","collected_at":"2026-10-16T17:01:00Z","rewritten_at":"2026-10-16T17:01:15Z","variants":{"balanced":{"title":"রাজবাড়ীতে মোটরসাইকেল আরোহীদের গুলিতে যুবক নিহত","body":"রাজবাড়ী শহরে পিয়ারুল সরদার (৩০) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার রাতে শহরের সজ্জনকান্দা মধ্যপাড়া মসজিদসংলগ্ন রাজনের দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত পিয়ারুল সরদার রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বড় মুরারিপুর গ্রামের হারুন সরদারের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র, হত্যা, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে সদর থানায় ১৪টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।\n\nপুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত পৌনে আটটার দিকে সজ্জনকান্দা মধ্যপাড়া মসজিদের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন পিয়ারুল। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে দুটি গুলি ছোড়েন। তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। গুলিবিদ্ধ পিয়ারুলকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বুকে দুটি গুলির ক্ষত ছিল।\n\nরাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক অনিক কুমার মণ্ডল বলেন, রাত ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে পিয়ারুলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। দ্রুত ইসিজি করার পর দেখা যায়, তিনি মারা গেছেন। এ অবস্থায় তাঁর স্বজনেরা তাঁকে ফরিদপুরে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।\n\nপুলিশ জানায়, পিয়ারুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, হত্যা, মাদক, ডাকাতি ও দস্যুতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৪টি মামলা রয়েছে। তাঁকে একাধিকবার গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। সর্বশেষ চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি এলাকায় অবস্থান করছিলেন।\n\nরাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন রাত পৌনে ১০টার দিকে মুঠোফোনে বলেন, পিয়ারুল সরদার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে গুলি করেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কয়েকটি দল কাজ করছে। হত্যার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।\n\nএ ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় সাধারণত লোকজনের চলাচল থাকে। হঠাৎ করে এমন গুলির ঘটনায় তারা আতঙ্কিত। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করেছে। নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।"}}},{"id":1281,"external_id":"news-1281","title":"দুই ছেলেকে নিয়ে পূজামণ্ডপে নয়নী, বনানীতে ‘জলজ’ থিমে ভিন্নতা","description":"গত বছর পূজার সময় ছোট ছেলে বিক্রম বিশ্বাসের বয়স ছিল মাত্র ২৯ দিন। এত ছোট শিশুকে নিয়ে পূজামণ্ডপে ঘুরতে বের হওয়া সম্ভব হয়নি নয়নী সোমের। এবার স্বামী বিনয় বিশ্বাস, তিন বছর বয়সী বড় ছেলে রামকৃষ্ণ বিশ্বাস ও এক বছর বয়সী বিক্রমকে নিয়ে বনানী পূজামণ্ডপে এসেছেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপে কথা হয় নয়নীর সঙ্গে। দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে পূজার আনন্দ ভাগ করে নিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। জানালেন, এবারের পূজা তাঁর কাছে বিশেষ আনন্দের।\n\nকথা বলতে বলতে দুই সন্তানের দিকে তাকিয়ে নয়নী সোম বলেন, ‘এ বছর দুই ছেলেকে নিয়ে পূজায় আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে। গত বছর ছোটটা একদম ছোট ছিল, তাই বের হতে পারিনি। এবার পরিবারের সবাই মিলে ঘুরছি, তাদের সঙ্গে নতুন স্মৃতি তৈরি হচ্ছে, ছবি তুলছি—সব মিলিয়ে এবারের পূজার আনন্দ অন্য রকম।’ নয়নী সোমদের বাসা বাড্ডায়। স্বামী বিনয় বিশ্বাস একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।\n\nআজ বিকেলে রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, দেবী দুর্গার প্রতিমা দর্শনে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রতিমার সামনে প্রণাম ও প্রার্থনা করছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে দেখছেন মণ্ডপের সাজসজ্জা। আবার অনেকে মণ্ডপের নান্দনিক সাজের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, সেলফি নিচ্ছেন। শিশুদের নিয়ে আসা অভিভাবকদের উপস্থিতিতে মণ্ডপজুড়ে ছিল উৎসবের বাড়তি আনন্দ।\n\nএমনই একটি পরিবারের দেখা মেলে মণ্ডপে। সাভার থেকে পরিবারের আট সদস্যকে নিয়ে বনানী পূজামণ্ডপে এসেছেন অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ কমিশনার বিকর্ণ কুমার চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী, মেয়ে, ছোট ভাই, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী এবং ছোট ভাইয়ের দুই মেয়ে। সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রতিমা দর্শনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজামণ্ডপ ঘোরার যাত্রা শুরু হয়। সেখান থেকে রামকৃষ্ণ মিশন হয়ে অন্যান্য মণ্ডপে যান বলে জানালেন।\n\nপেশাগত জীবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেছেন বিকর্ণ কুমার চৌধুরী। আগে পূজার সময় দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকলেও অবসরে যাওয়ার পর এবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে পূজার আয়োজন উপভোগ করছেন তিনি। তাঁর চোখে এবারের আয়োজন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা বেশ গোছানো। বিকর্ণ কুমার চৌধুরী বলেন, ‘পরিবেশ অনেক সুন্দর, প্রস্তুতিও মনোমুগ্ধকর। এক কথায়, সবকিছুই মনোমুগ্ধকর।’ পূজা পরিদর্শনে আসা ওই পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য রাইকা কিন্ডারগার্টেনে পড়ে। সে জানায়, বড়দের সঙ্গে পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখতে তারও খুব ভালো লাগছে।\n\nবনানী পূজামণ্ডপে এবার দেবী দর্শনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সামনে উঠে এসেছে নদী, পানি ও জলকেন্দ্রিক জীবন-সংস্কৃতির গল্প। মণ্ডপের প্রবেশপথ থেকে ভেতরের সাজসজ্জা—সবখানেই রয়েছে ‘জলজ’ ভাবনার ছাপ। আয়োজকদের উদ্দেশ্য শুধু নান্দনিক একটি পূজামণ্ডপ তৈরি করা নয়, বরং পানির গুরুত্ব, নদীর সংকট এবং জলকেন্দ্রিক জনগোষ্ঠীর হারিয়ে যেতে থাকা জীবনধারা নিয়ে মানুষকে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করা। ২০০৮ সালে এই মণ্ডপে পূজা শুরু হয়। এ বছর ১৯তম বছরে পদার্পণ করেছে বলে জানিয়েছেন গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়। এবারের থিম ‘জলজ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। অথচ ধীরে ধীরে নদ-নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। নদী ও পানিকে ঘিরে যেসব জনগোষ্ঠীর জীবন, জীবিকা ও সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, সেগুলোও নানা কারণে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সেই বাস্তবতা সামনে আনতেই জলকে এবারের পূজার মূল ভাবনা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।’ মণ্ডপের প্রবেশপথটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যেন দর্শনার্থীরা একটি জলাধারের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করছেন। ভেতরে মাছ ধরার সরঞ্জাম, শেওলা এবং জলকেন্দ্রিক নানা উপকরণের মাধ্যমে নদী ও পানির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিমার পেছনে রয়েছে শঙ্খ, আর তার সামনে অধিষ্ঠিত দেবী দুর্গা। সাজসজ্জার প্রতিটি অংশে তাই রয়েছে প্রকৃতি, পানি ও মানুষের জীবনযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গল্প। এই থিমের সঙ্গে সরাসরি ধর্মীয় কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান বিনয় গোপাল রায়। তাঁর মতে, বিশ্বজুড়েই পানির সংকট ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। সেই সংকট সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং জলাধার রক্ষায় নাগরিকদের দায়িত্বশীল করে তোলাই এবারের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, ‘আমরা বার্তা দিতে চাই, ঢাকা শহরে যাঁরা থাকি কিংবা দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাঁরা বসবাস করি, আমরা যেন জলাধারগুলো নষ্ট না করি। আমরা সবাই যেন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের দায়িত্বটুকু পালন করি।’ মণ্ডপের সাজসজ্জায় পরিবেশবান্ধব ভাবনারও প্রতিফলন রয়েছে বলে জানান আয়োজকেরা। তাঁদের ভাষ্য, পুরো কাঠামো টেকসই উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। খাবার পরিবেশনের জন্যও ব্যবহার করা হচ্ছে একবার ব্যবহারযোগ্য পাত্র। দুর্গাপূজা ঘিরে বনানীসহ গুলশান বিভাগের প্রধান পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. মামুনুর হক জানান, নিয়মিত মোতায়েনের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের কোনো সমস্যা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থাপন করা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। মোবাইল ফোন হারানোসহ বিভিন্ন অভিযোগের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী সেখান থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মণ্ডপের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ছাদে পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পূজার দশমী পর্যন্ত এ ব্যবস্থা বহাল থাকবে। দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সদস্যদের নিয়মিত পালা করে পরিবর্তন করা হবে। পাশাপাশি পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সভার মাধ্যমে তাঁদের পর্যবেক্ষণ এবং পরামর্শ অনুযায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত নিরাপত্তাব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি বলে জানান এডিসি মামুনুর হক। পুলিশ, পূজা উদ্‌যাপন কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত সহযোগিতায় উৎসব সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা তাঁর।","description_word_count":741,"url":"https://prelive.starplaybd.com/news/1281","json_url":"https://prelive.starplaybd.com/api/news/1281.json","image":"https://prelive.starplaybd.com/media/bc82587fa84c9399233fec451f302df85c5682e46008b04e52ce704d9a3f9712.jpg","image_status":"stored","categories":["bangladesh"],"published_at":"2026-10-16T16:42:22.000Z","collected_at":"2026-10-16T17:01:18Z","rewritten_at":"2026-10-16T17:01:29Z","variants":{"balanced":{"title":"দুই ছেলেকে নিয়ে পূজামণ্ডপে নয়নী, বনানীতে ‘জলজ’ থিমে ভিন্নতা","body":"গত বছর পূজার সময় ছোট ছেলে বিক্রম বিশ্বাসের বয়স ছিল মাত্র ২৯ দিন। এত ছোট শিশুকে নিয়ে পূজামণ্ডপে ঘুরতে বের হওয়া সম্ভব হয়নি নয়নী সোমের। এবার স্বামী বিনয় বিশ্বাস, তিন বছর বয়সী বড় ছেলে রামকৃষ্ণ বিশ্বাস ও এক বছর বয়সী বিক্রমকে নিয়ে বনানী পূজামণ্ডপে এসেছেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপে কথা হয় নয়নীর সঙ্গে। দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে পূজার আনন্দ ভাগ করে নিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। জানালেন, এবারের পূজা তাঁর কাছে বিশেষ আনন্দের।\n\nকথা বলতে বলতে দুই সন্তানের দিকে তাকিয়ে নয়নী সোম বলেন, ‘এ বছর দুই ছেলেকে নিয়ে পূজায় আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে। গত বছর ছোটটা একদম ছোট ছিল, তাই বের হতে পারিনি। এবার পরিবারের সবাই মিলে ঘুরছি, তাদের সঙ্গে নতুন স্মৃতি তৈরি হচ্ছে, ছবি তুলছি—সব মিলিয়ে এবারের পূজার আনন্দ অন্য রকম।’ নয়নী সোমদের বাসা বাড্ডায়। স্বামী বিনয় বিশ্বাস একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।\n\nআজ বিকেলে রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, দেবী দুর্গার প্রতিমা দর্শনে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রতিমার সামনে প্রণাম ও প্রার্থনা করছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে দেখছেন মণ্ডপের সাজসজ্জা। আবার অনেকে মণ্ডপের নান্দনিক সাজের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, সেলফি নিচ্ছেন। শিশুদের নিয়ে আসা অভিভাবকদের উপস্থিতিতে মণ্ডপজুড়ে ছিল উৎসবের বাড়তি আনন্দ।\n\nএমনই একটি পরিবারের দেখা মেলে মণ্ডপে। সাভার থেকে পরিবারের আট সদস্যকে নিয়ে বনানী পূজামণ্ডপে এসেছেন অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ কমিশনার বিকর্ণ কুমার চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী, মেয়ে, ছোট ভাই, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী এবং ছোট ভাইয়ের দুই মেয়ে। সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রতিমা দর্শনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজামণ্ডপ ঘোরার যাত্রা শুরু হয়। সেখান থেকে রামকৃষ্ণ মিশন হয়ে অন্যান্য মণ্ডপে যান বলে জানালেন।\n\nপেশাগত জীবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেছেন বিকর্ণ কুমার চৌধুরী। আগে পূজার সময় দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকলেও অবসরে যাওয়ার পর এবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে পূজার আয়োজন উপভোগ করছেন তিনি। তাঁর চোখে এবারের আয়োজন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা বেশ গোছানো। বিকর্ণ কুমার চৌধুরী বলেন, ‘পরিবেশ অনেক সুন্দর, প্রস্তুতিও মনোমুগ্ধকর। এক কথায়, সবকিছুই মনোমুগ্ধকর।’ পূজা পরিদর্শনে আসা ওই পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য রাইকা কিন্ডারগার্টেনে পড়ে। সে জানায়, বড়দের সঙ্গে পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখতে তারও খুব ভালো লাগছে।\n\nবনানী পূজামণ্ডপে এবার দেবী দর্শনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সামনে উঠে এসেছে নদী, পানি ও জলকেন্দ্রিক জীবন-সংস্কৃতির গল্প। মণ্ডপের প্রবেশপথ থেকে ভেতরের সাজসজ্জা—সবখানেই রয়েছে ‘জলজ’ ভাবনার ছাপ। আয়োজকদের উদ্দেশ্য শুধু নান্দনিক একটি পূজামণ্ডপ তৈরি করা নয়, বরং পানির গুরুত্ব, নদীর সংকট এবং জলকেন্দ্রিক জনগোষ্ঠীর হারিয়ে যেতে থাকা জীবনধারা নিয়ে মানুষকে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করা। ২০০৮ সালে এই মণ্ডপে পূজা শুরু হয়। এ বছর ১৯তম বছরে পদার্পণ করেছে বলে জানিয়েছেন গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়। এবারের থিম ‘জলজ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। অথচ ধীরে ধীরে নদ-নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। নদী ও পানিকে ঘিরে যেসব জনগোষ্ঠীর জীবন, জীবিকা ও সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, সেগুলোও নানা কারণে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সেই বাস্তবতা সামনে আনতেই জলকে এবারের পূজার মূল ভাবনা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।’ মণ্ডপের প্রবেশপথটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যেন দর্শনার্থীরা একটি জলাধারের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করছেন। ভেতরে মাছ ধরার সরঞ্জাম, শেওলা এবং জলকেন্দ্রিক নানা উপকরণের মাধ্যমে নদী ও পানির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিমার পেছনে রয়েছে শঙ্খ, আর তার সামনে অধিষ্ঠিত দেবী দুর্গা। সাজসজ্জার প্রতিটি অংশে তাই রয়েছে প্রকৃতি, পানি ও মানুষের জীবনযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গল্প। এই থিমের সঙ্গে সরাসরি ধর্মীয় কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান বিনয় গোপাল রায়। তাঁর মতে, বিশ্বজুড়েই পানির সংকট ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। সেই সংকট সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং জলাধার রক্ষায় নাগরিকদের দায়িত্বশীল করে তোলাই এবারের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, ‘আমরা বার্তা দিতে চাই, ঢাকা শহরে যাঁরা থাকি কিংবা দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাঁরা বসবাস করি, আমরা যেন জলাধারগুলো নষ্ট না করি। আমরা সবাই যেন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের দায়িত্বটুকু পালন করি।’ মণ্ডপের সাজসজ্জায় পরিবেশবান্ধব ভাবনারও প্রতিফলন রয়েছে বলে জানান আয়োজকেরা। তাঁদের ভাষ্য, পুরো কাঠামো টেকসই উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। খাবার পরিবেশনের জন্যও ব্যবহার করা হচ্ছে একবার ব্যবহারযোগ্য পাত্র। দুর্গাপূজা ঘিরে বনানীসহ গুলশান বিভাগের প্রধান পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. মামুনুর হক জানান, নিয়মিত মোতায়েনের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের কোনো সমস্যা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থাপন করা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। মোবাইল ফোন হারানোসহ বিভিন্ন অভিযোগের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী সেখান থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মণ্ডপের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ছাদে পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পূজার দশমী পর্যন্ত এ ব্যবস্থা বহাল থাকবে। দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সদস্যদের নিয়মিত পালা করে পরিবর্তন করা হবে। পাশাপাশি পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সভার মাধ্যমে তাঁদের পর্যবেক্ষণ এবং পরামর্শ অনুযায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত নিরাপত্তাব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি বলে জানান এডিসি মামুনুর হক। পুলিশ, পূজা উদ্‌যাপন কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত সহযোগিতায় উৎসব সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা তাঁর।"}}},{"id":1282,"external_id":"news-1282","title":"ঠাকুরগাঁওয়ে হারিয়ে যাওয়া প্রাণীর প্রতিকৃতি প্রদর্শনী ও শোভাযাত্রা","description":"সন্ধ্যা নামতেই ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার সোনাপাতিলা গ্রামের পুকুরপাড়ে জ্বলে ওঠে আলো। অন্ধকারে ভেসে ওঠে বিশাল আকৃতির দুটি সাপ—একটি শাঁখামুটি, অন্যটি গুই। পাশে বেজি, গন্ধগোকুল, ভোঁদড়, কাঠবিড়ালি, কুমির, মদনটাক, প্রজাপতি, ফড়িং, রুই-কাতলাসহ নানা প্রাণীর অবয়ব। এসব প্রতিকৃতি তৈরি হয়েছে বাঁশ ও কাপড় দিয়ে। শুক্রবার সন্ধ্যায় এমন দৃশ্যের দেখা মেলে। স্থানীয় ৫০ জন বাসিন্দা মিলে এসব প্রাণীর অবয়ব নির্মাণ করেন, যাদের অধিকাংশই নারী। দুর্গাপূজার উৎসব ঘিরে সাংস্কৃতিক অনুশীলনধর্মী প্ল্যাটফর্ম ‘গিদরী বাউলি ফাউন্ডেশন অব আর্টস’ এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে।\n\nশরতের শেষ বিকেলে সূর্যের আলো হারিয়ে গেলে পুকুরপাড়ে প্রাণীগুলোর ভেতরের আলো জ্বলে ওঠে। সেই আলোর টানে মানুষ সেখানে ভিড় করতে শুরু করে। সন্ধ্যা সাতটার দিকে আয়োজকেরা ১৩টি প্রাণীর ২৬টি অবয়ব নিয়ে গ্রামের কামাতপাড়ায় যান। সেখান থেকে শুরু হয় শোভাযাত্রা। এতে অংশ নেন বিভিন্ন বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশু। শোভাযাত্রাটি গ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পূজামণ্ডপে গিয়ে শেষ হয়। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ করতালি দিয়ে তাদের উৎসাহ দেন। এরপর লোকজন ঘুরে ঘুরে শিল্পকর্মগুলো দেখেন এবং প্রাণীগুলোর সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক নিয়ে জানতে চান।\n\nদর্শনার্থীদের কাছ থেকে এসব প্রাণী সংরক্ষণে অঙ্গীকার নেন আয়োজকেরা। পাশাপাশি চলে নানা রকমের গীত। প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হয়ে রাত আটটা পর্যন্ত চলে। এটি শেষ হবে আগামী মঙ্গলবার। আয়োজকেরা জানান, এই চার দিন গ্রামের চারটি এলাকা থেকে শোভাযাত্রা বের হবে। প্রদর্শনীতে বিষধর সাপের শত্রুও রয়েছে—বাঁশ, সুতলি ও কাপড় দিয়ে তৈরি ৩৩ ফুট লম্বা শাঁখামুটি সাপ, যা হলুদ-কালো ডোরাকাটা।\n\nশিল্পীদের একজন আমল টুডু বলেন, শাঁখামুটি অন্য সাপ খেয়ে বেঁচে থাকে। কালাচ, চন্দ্রবোড়া ও গোখরার মতো বিষধর সাপও এর খাদ্য। ফলে প্রকৃতিতে শাঁখামুটির সংখ্যা কমে গেলে বিষধর সাপের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। খাদ্যশৃঙ্খল ঠিক রাখতেও এই সাপের ভূমিকা রয়েছে। এই আয়োজন সম্পর্কে গিদরী বাউলি ফাউন্ডেশন অব আর্টসের সভাপতি কামরুজ্জামান স্বাধীন বলেন, ‘পরিবেশগত নানা কারণে অনেক প্রাণী মানুষের আশপাশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় গল্প ও লোকজ জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে এসব শিল্পকর্ম তৈরি করা হয়েছে। এই প্রদর্শনীতে প্রাণীগুলোর হারিয়ে যাওয়া নিয়ে স্থানীয় মানুষের চিন্তা ও উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটেছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রকৃতির সঙ্গে প্রাণীর সম্পর্কের কথাই নতুন করে আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই।’\n\nপঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদ জাকিরুল হক চৌধুরী থাকেন ঠাকুরগাঁও শহর ঘোষপাড়ায়। তিনিও এসেছেন এই আয়োজনে। শহীদ জাকিরুল বলেন, ‘হারিয়ে যেতে বসা প্রাণীদের প্রতিকৃতি দেখে ভালো লেগেছে। এমন আয়োজন থেকে মানুষ কিছুটা সচেতন হলে আমাদেরই উপকার। যখন পরিবেশ সংরক্ষণের কথা এলাকার সব শ্রেণির মানুষ জেনে অঙ্গীকার করে, তখন আমাদের মধ্যে আশার আলো জেগে ওঠে।’\n\nএকটি প্রজাতি বা দেশি জাত বিলুপ্ত হওয়া মানে জীববৈচিত্র্যের একটি চিরস্থায়ী ক্ষতি বলে মনে করেন ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক শিক্ষক মাজেদ জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, প্রাণী ও মানুষের যৌথ স্বাস্থ্যের সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত ধারণাটি হলো ‘ওয়ান হেলথ’। অর্থাৎ প্রাণীর স্বাস্থ্য, পরিবেশের সুস্থতা ও মানুষের স্বাস্থ্য একটি অপরটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জলাতঙ্ক, বার্ড ফ্লু কিংবা নিপাহ ভাইরাসের মতো মহামারি প্রমাণ করে প্রাণীর সঠিক পরিচর্যা ও বাসস্থান নিশ্চিত না করলে মানবজাতিও সুরক্ষিত নয়।","description_word_count":448,"url":"https://prelive.starplaybd.com/news/1282","json_url":"https://prelive.starplaybd.com/api/news/1282.json","image":"https://prelive.starplaybd.com/media/80107e35641b251079c00fcaa3b38e3df3e473c27ccec937091a25f8eaf776fa.jpg","image_status":"stored","categories":["bangladesh"],"published_at":"2026-10-16T16:22:14.000Z","collected_at":"2026-10-16T17:01:32Z","rewritten_at":"2026-10-16T17:01:41Z","variants":{"balanced":{"title":"ঠাকুরগাঁওয়ে হারিয়ে যাওয়া প্রাণীর প্রতিকৃতি প্রদর্শনী ও শোভাযাত্রা","body":"সন্ধ্যা নামতেই ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার সোনাপাতিলা গ্রামের পুকুরপাড়ে জ্বলে ওঠে আলো। অন্ধকারে ভেসে ওঠে বিশাল আকৃতির দুটি সাপ—একটি শাঁখামুটি, অন্যটি গুই। পাশে বেজি, গন্ধগোকুল, ভোঁদড়, কাঠবিড়ালি, কুমির, মদনটাক, প্রজাপতি, ফড়িং, রুই-কাতলাসহ নানা প্রাণীর অবয়ব। এসব প্রতিকৃতি তৈরি হয়েছে বাঁশ ও কাপড় দিয়ে। শুক্রবার সন্ধ্যায় এমন দৃশ্যের দেখা মেলে। স্থানীয় ৫০ জন বাসিন্দা মিলে এসব প্রাণীর অবয়ব নির্মাণ করেন, যাদের অধিকাংশই নারী। দুর্গাপূজার উৎসব ঘিরে সাংস্কৃতিক অনুশীলনধর্মী প্ল্যাটফর্ম ‘গিদরী বাউলি ফাউন্ডেশন অব আর্টস’ এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে।\n\nশরতের শেষ বিকেলে সূর্যের আলো হারিয়ে গেলে পুকুরপাড়ে প্রাণীগুলোর ভেতরের আলো জ্বলে ওঠে। সেই আলোর টানে মানুষ সেখানে ভিড় করতে শুরু করে। সন্ধ্যা সাতটার দিকে আয়োজকেরা ১৩টি প্রাণীর ২৬টি অবয়ব নিয়ে গ্রামের কামাতপাড়ায় যান। সেখান থেকে শুরু হয় শোভাযাত্রা। এতে অংশ নেন বিভিন্ন বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশু। শোভাযাত্রাটি গ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পূজামণ্ডপে গিয়ে শেষ হয়। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ করতালি দিয়ে তাদের উৎসাহ দেন। এরপর লোকজন ঘুরে ঘুরে শিল্পকর্মগুলো দেখেন এবং প্রাণীগুলোর সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক নিয়ে জানতে চান।\n\nদর্শনার্থীদের কাছ থেকে এসব প্রাণী সংরক্ষণে অঙ্গীকার নেন আয়োজকেরা। পাশাপাশি চলে নানা রকমের গীত। প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হয়ে রাত আটটা পর্যন্ত চলে। এটি শেষ হবে আগামী মঙ্গলবার। আয়োজকেরা জানান, এই চার দিন গ্রামের চারটি এলাকা থেকে শোভাযাত্রা বের হবে। প্রদর্শনীতে বিষধর সাপের শত্রুও রয়েছে—বাঁশ, সুতলি ও কাপড় দিয়ে তৈরি ৩৩ ফুট লম্বা শাঁখামুটি সাপ, যা হলুদ-কালো ডোরাকাটা।\n\nশিল্পীদের একজন আমল টুডু বলেন, শাঁখামুটি অন্য সাপ খেয়ে বেঁচে থাকে। কালাচ, চন্দ্রবোড়া ও গোখরার মতো বিষধর সাপও এর খাদ্য। ফলে প্রকৃতিতে শাঁখামুটির সংখ্যা কমে গেলে বিষধর সাপের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। খাদ্যশৃঙ্খল ঠিক রাখতেও এই সাপের ভূমিকা রয়েছে। এই আয়োজন সম্পর্কে গিদরী বাউলি ফাউন্ডেশন অব আর্টসের সভাপতি কামরুজ্জামান স্বাধীন বলেন, ‘পরিবেশগত নানা কারণে অনেক প্রাণী মানুষের আশপাশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় গল্প ও লোকজ জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে এসব শিল্পকর্ম তৈরি করা হয়েছে। এই প্রদর্শনীতে প্রাণীগুলোর হারিয়ে যাওয়া নিয়ে স্থানীয় মানুষের চিন্তা ও উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটেছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রকৃতির সঙ্গে প্রাণীর সম্পর্কের কথাই নতুন করে আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই।’\n\nপঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদ জাকিরুল হক চৌধুরী থাকেন ঠাকুরগাঁও শহর ঘোষপাড়ায়। তিনিও এসেছেন এই আয়োজনে। শহীদ জাকিরুল বলেন, ‘হারিয়ে যেতে বসা প্রাণীদের প্রতিকৃতি দেখে ভালো লেগেছে। এমন আয়োজন থেকে মানুষ কিছুটা সচেতন হলে আমাদেরই উপকার। যখন পরিবেশ সংরক্ষণের কথা এলাকার সব শ্রেণির মানুষ জেনে অঙ্গীকার করে, তখন আমাদের মধ্যে আশার আলো জেগে ওঠে।’\n\nএকটি প্রজাতি বা দেশি জাত বিলুপ্ত হওয়া মানে জীববৈচিত্র্যের একটি চিরস্থায়ী ক্ষতি বলে মনে করেন ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক শিক্ষক মাজেদ জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, প্রাণী ও মানুষের যৌথ স্বাস্থ্যের সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত ধারণাটি হলো ‘ওয়ান হেলথ’। অর্থাৎ প্রাণীর স্বাস্থ্য, পরিবেশের সুস্থতা ও মানুষের স্বাস্থ্য একটি অপরটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জলাতঙ্ক, বার্ড ফ্লু কিংবা নিপাহ ভাইরাসের মতো মহামারি প্রমাণ করে প্রাণীর সঠিক পরিচর্যা ও বাসস্থান নিশ্চিত না করলে মানবজাতিও সুরক্ষিত নয়।"}}},{"id":1284,"external_id":"news-1284","title":"মিষ্টির শূন্য সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ৬৭ জন","description":"ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে ফরম কিনেছেন ৬৭ জন। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মনোনয়ন ফরম নেওয়া নারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য, দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী এবং জেলা ও মহানগর পর্যায়ের সংগঠকেরা। আজ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তাঁরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। বিএনপির ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম বিতরণের সময় নির্ধারিত ছিল।\n\nফরম সংগ্রহ করা নেত্রীরা বিগত আন্দোলন–সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা তুলে ধরে মূল্যায়নের আশা করছেন। তাঁরা সংসদে গিয়ে নিজের এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ চান। তবে একটিমাত্র আসনে এই উপনির্বাচন হবে বিধায় একজনকে মনোনয়ন দেবে বিএনপি। সংগ্রহ করা ফরম পূরণ করে আগামীকাল শনিবার একই কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফরম জমা নেওয়া হবে। দলীয় মনোনয়ন চেয়ে এই ফরম জমা দেওয়ার পরেও নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র দাখিলের আলাদা প্রক্রিয়া রয়েছে।\n\nমিষ্টির শূন্য আসনে মনোনয়ন পাওয়ার আলোচনায় আগে যাঁদের নাম এসেছিল, তাঁদের প্রত্যেকেই ফরম নিয়েছেন বলে বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির সহমানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহানা আক্তার সানু ও আয়শা সিদ্দিকা মনি। এ ছাড়া ফরম সংগ্রহ করেছেন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর বেগম, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় মানব উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার ফারহানা আতিকা, বরিশাল মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদা আফরোজ হক, ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভাপতি রুনা লায়লা ও দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসনাহেনা হীরা।\n\nমনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন প্রবীন নারী নেত্রী জেলী চৌধুরী। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় আসেন। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা ও সিমকী ইমাম খান। চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সাবেক প্রচার সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদা আক্তার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় থাকা সৈয়দা আদিবা হোসেন, ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক রেহানা আক্তার শিরিন প্রমুখ। এই নেত্রীদের অনেকেই এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চেয়ে পাননি। কেউ সরাসরি সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টায় ছিলেন। মিষ্টির পদত্যাগের পর তাঁদের সামনে আবার সুযোগ এসেছে। ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা নেত্রীর পাশাপাশি মহিলা দল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সংগঠকেরাও এবার মনোনয়ন চাইছেন।\n\nমনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা রুনা লায়লা বলেন, শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন করতে গিয়ে বিগত দিনে তাঁর বিরুদ্ধে ২২টি মামলা হয়েছে। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর মাথায় গুলি লেগেছিল। ঢাকা উত্তরের সব অলিগলি তাঁর চেনা। দলের প্রয়োজনে তাঁকে বেছে নেওয়া হবে এবং এবার তিনি মূল্যায়ন পাবেন বলে বিশ্বাস করেন। রুনা লায়লা মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশার সঙ্গে বিগত আন্দোলনে নিজের ভূমিকা ও অভিজ্ঞতার বিষয়টি সামনে এনেছেন। অন্যদিকে হাসনাহেনা হীরা বলেছেন, আন্দোলন–সংগ্রামে ভূমিকা রাখার পর এখন তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান। এ জন্য সরাসরি সংসদ উপস্থিত থেকে ভূমিকা রাখার সুযোগকে প্রয়োজনীয় মনে করছেন তিনি।\n\nনিজের এলাকার পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছার কথা জানিয়ে হাসনাহেনা হীরা বলেন, ‘এমনিতেই আমার এলাকা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। আমার এখন দায়িত্ব পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কিছু করার। কিন্তু সরকারে সরাসরি না থাকলে সেটা বেশ কঠিন আমার জন্য। এ জন্যই আমি ফরম তুলেছি। আমার বিশ্বাস, দল এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে অবশ্যই মূল্যায়ন করবেন।’ গত ২৪ সেপ্টেম্বর মিরপুরের রাড্ডা মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর ১ অক্টোবর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন মিষ্টি। তাঁর পদত্যাগের দিনই সংরক্ষিত নারী আসন–২৩ শূন্য ঘোষণা করা হয়।\n\nএ আসনের উপনির্বাচন হবে ১২ নভেম্বর। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ২৬ অক্টোবর, বাছাই ২৭ অক্টোবর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১ নভেম্বর। বিএনপির জন্য বরাদ্দ আসন হওয়ায় দলটিই এখানে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। ফলে ৬৭ জনের মধ্যে বিএনপির মনোনয়ন কে পাচ্ছেন, সেটিই এখন এই আসনের পরবর্তী সংসদ সদস্য নির্ধারণের মূল বিষয়।","description_word_count":613,"url":"https://prelive.starplaybd.com/news/1284","json_url":"https://prelive.starplaybd.com/api/news/1284.json","image":"https://prelive.starplaybd.com/media/495710a63a3715fd2f020602f5feadb44e3ee57d9fc1d7d4647c6eb291b068fc.jpg","image_status":"stored","categories":["politics"],"published_at":"2026-10-16T16:15:30.000Z","collected_at":"2026-10-16T17:01:57Z","rewritten_at":"2026-10-16T17:02:07Z","variants":{"balanced":{"title":"মিষ্টির শূন্য সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ৬৭ জন","body":"ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে ফরম কিনেছেন ৬৭ জন। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মনোনয়ন ফরম নেওয়া নারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য, দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী এবং জেলা ও মহানগর পর্যায়ের সংগঠকেরা। আজ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তাঁরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। বিএনপির ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম বিতরণের সময় নির্ধারিত ছিল।\n\nফরম সংগ্রহ করা নেত্রীরা বিগত আন্দোলন–সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা তুলে ধরে মূল্যায়নের আশা করছেন। তাঁরা সংসদে গিয়ে নিজের এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ চান। তবে একটিমাত্র আসনে এই উপনির্বাচন হবে বিধায় একজনকে মনোনয়ন দেবে বিএনপি। সংগ্রহ করা ফরম পূরণ করে আগামীকাল শনিবার একই কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফরম জমা নেওয়া হবে। দলীয় মনোনয়ন চেয়ে এই ফরম জমা দেওয়ার পরেও নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র দাখিলের আলাদা প্রক্রিয়া রয়েছে।\n\nমিষ্টির শূন্য আসনে মনোনয়ন পাওয়ার আলোচনায় আগে যাঁদের নাম এসেছিল, তাঁদের প্রত্যেকেই ফরম নিয়েছেন বলে বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির সহমানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহানা আক্তার সানু ও আয়শা সিদ্দিকা মনি। এ ছাড়া ফরম সংগ্রহ করেছেন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর বেগম, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় মানব উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার ফারহানা আতিকা, বরিশাল মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদা আফরোজ হক, ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভাপতি রুনা লায়লা ও দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসনাহেনা হীরা।\n\nমনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন প্রবীন নারী নেত্রী জেলী চৌধুরী। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় আসেন। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা ও সিমকী ইমাম খান। চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সাবেক প্রচার সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদা আক্তার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় থাকা সৈয়দা আদিবা হোসেন, ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক রেহানা আক্তার শিরিন প্রমুখ। এই নেত্রীদের অনেকেই এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চেয়ে পাননি। কেউ সরাসরি সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টায় ছিলেন। মিষ্টির পদত্যাগের পর তাঁদের সামনে আবার সুযোগ এসেছে। ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা নেত্রীর পাশাপাশি মহিলা দল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সংগঠকেরাও এবার মনোনয়ন চাইছেন।\n\nমনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা রুনা লায়লা বলেন, শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন করতে গিয়ে বিগত দিনে তাঁর বিরুদ্ধে ২২টি মামলা হয়েছে। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর মাথায় গুলি লেগেছিল। ঢাকা উত্তরের সব অলিগলি তাঁর চেনা। দলের প্রয়োজনে তাঁকে বেছে নেওয়া হবে এবং এবার তিনি মূল্যায়ন পাবেন বলে বিশ্বাস করেন। রুনা লায়লা মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশার সঙ্গে বিগত আন্দোলনে নিজের ভূমিকা ও অভিজ্ঞতার বিষয়টি সামনে এনেছেন। অন্যদিকে হাসনাহেনা হীরা বলেছেন, আন্দোলন–সংগ্রামে ভূমিকা রাখার পর এখন তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান। এ জন্য সরাসরি সংসদ উপস্থিত থেকে ভূমিকা রাখার সুযোগকে প্রয়োজনীয় মনে করছেন তিনি।\n\nনিজের এলাকার পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছার কথা জানিয়ে হাসনাহেনা হীরা বলেন, ‘এমনিতেই আমার এলাকা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। আমার এখন দায়িত্ব পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কিছু করার। কিন্তু সরকারে সরাসরি না থাকলে সেটা বেশ কঠিন আমার জন্য। এ জন্যই আমি ফরম তুলেছি। আমার বিশ্বাস, দল এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে অবশ্যই মূল্যায়ন করবেন।’ গত ২৪ সেপ্টেম্বর মিরপুরের রাড্ডা মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর ১ অক্টোবর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন মিষ্টি। তাঁর পদত্যাগের দিনই সংরক্ষিত নারী আসন–২৩ শূন্য ঘোষণা করা হয়।\n\nএ আসনের উপনির্বাচন হবে ১২ নভেম্বর। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ২৬ অক্টোবর, বাছাই ২৭ অক্টোবর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১ নভেম্বর। বিএনপির জন্য বরাদ্দ আসন হওয়ায় দলটিই এখানে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। ফলে ৬৭ জনের মধ্যে বিএনপির মনোনয়ন কে পাচ্ছেন, সেটিই এখন এই আসনের পরবর্তী সংসদ সদস্য নির্ধারণের মূল বিষয়।"}}},{"id":1283,"external_id":"news-1283","title":"গরু-মহিষকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি রুমিন ফারহানার","description":"ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, এখন গরু-মহিষকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে খামারের মাছের খাবারে বিষ মেশানো হয়। নিজ এলাকায় চাঁদাবাজি হলে রাজপথে নামারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলার প্রত্যন্ত পাকশিমুল ইউনিয়নের জয়দরকান্দি গ্রামের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।\n\nস্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘বাংলাদেশের এখন এই অবস্থা হইছে যে গরু-মহিষরে ঘাস খাওয়াইতে হইলেও চান্দা দিয়া খাওয়াইতে হয়। চান্দা না দিলে খামারের মাছের খাবারে বিষ মেশানো হয়।’ এ সময় রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার এলাকায় চান্দাবাজি হইলে আমি কাউকে চিনি না। আমি তাঁর বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়াব। ডান পাশে বালুচোর আর বাম পাশে মামলাবাজ নিয়া আমি রাজনীতি করতে চাই না।’\n\nব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমার কোনো আত্মীয় নাই, যাকে সারের ডিলারশিপ দিতে হবে। আমার কোনো আত্মীয় নাই, যাকে রাস্তার কাজের ঠিকাদারি দিতে হবে। আমার কোনো আত্মীয় নাই, যাকে চান্দা দিয়া আপনাদের ব্যবসা করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার কোনো কর্মীর বিষয়ে যেকোনো অভিযোগ থাকলে নাম-পরিচয় গোপন রেখে লিখিতভাবে আমাকে জানাবেন। আপনাদের পরিচয় আমি প্রকাশ করব না। কিন্তু সেই কর্মীর ব্যাপারে যে ব্যবস্থার নেওয়ার, আমি সে ব্যবস্থা নেব।’\n\nরুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার কোনো কর্মী যদি আমার কোনো ভোটারের সঙ্গে একটুও বেয়াদবি করে, আমার ওই কর্মীর নাম আমার কাছে জমা দেবেন, বাকি ব্যবস্থাটা আমি করব।’ এ ছাড়া স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘১৭ বছর আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আমরা আশা করেছিলাম, আমরা জনগণের একটা সরকার পাব, যারা বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করবে, গ্যাসের সমস্যা সমাধান করবে, আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাবে, জিনিসপত্রের দাম নাগালের মধ্যে রাখবে।’\n\nতিনি বলেন, ‘আমাদের এমন দুর্ভাগ্য, ৮০-৯০ টাকা কেজির নিচে সবজি নাই। ঢাকা শহরে একটা ডিমের দাম ১৫ টাকা। গরিব খাবে কী?’ এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই না কোনো চাঁদাবাজ আমার এলাকায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। চাঁদাবাজি বন্ধে আমি কোনো ছাড় দেব না।’\n\nমতবিনিময় সভায় স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। রুমিন ফারহানা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং সমাধানের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, আমি আপনাদের পাশে আছি। কোনো অন্যায় হলে সরাসরি আমাকে জানাবেন। আমি ব্যবস্থা নেব।’ সভায় চাঁদাবাজি, মাদক, সড়ক উন্নয়নসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।","description_word_count":342,"url":"https://prelive.starplaybd.com/news/1283","json_url":"https://prelive.starplaybd.com/api/news/1283.json","image":"https://prelive.starplaybd.com/media/cdd0b360ddad452502168548984eb9642d9a4d9e75a50775bddb0fd6339183e0.jpg","image_status":"stored","categories":["bangladesh"],"published_at":"2026-10-16T16:10:46.000Z","collected_at":"2026-10-16T17:01:44Z","rewritten_at":"2026-10-16T17:01:51Z","variants":{"balanced":{"title":"গরু-মহিষকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি রুমিন ফারহানার","body":"ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, এখন গরু-মহিষকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে খামারের মাছের খাবারে বিষ মেশানো হয়। নিজ এলাকায় চাঁদাবাজি হলে রাজপথে নামারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলার প্রত্যন্ত পাকশিমুল ইউনিয়নের জয়দরকান্দি গ্রামের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।\n\nস্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘বাংলাদেশের এখন এই অবস্থা হইছে যে গরু-মহিষরে ঘাস খাওয়াইতে হইলেও চান্দা দিয়া খাওয়াইতে হয়। চান্দা না দিলে খামারের মাছের খাবারে বিষ মেশানো হয়।’ এ সময় রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার এলাকায় চান্দাবাজি হইলে আমি কাউকে চিনি না। আমি তাঁর বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়াব। ডান পাশে বালুচোর আর বাম পাশে মামলাবাজ নিয়া আমি রাজনীতি করতে চাই না।’\n\nব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমার কোনো আত্মীয় নাই, যাকে সারের ডিলারশিপ দিতে হবে। আমার কোনো আত্মীয় নাই, যাকে রাস্তার কাজের ঠিকাদারি দিতে হবে। আমার কোনো আত্মীয় নাই, যাকে চান্দা দিয়া আপনাদের ব্যবসা করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার কোনো কর্মীর বিষয়ে যেকোনো অভিযোগ থাকলে নাম-পরিচয় গোপন রেখে লিখিতভাবে আমাকে জানাবেন। আপনাদের পরিচয় আমি প্রকাশ করব না। কিন্তু সেই কর্মীর ব্যাপারে যে ব্যবস্থার নেওয়ার, আমি সে ব্যবস্থা নেব।’\n\nরুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার কোনো কর্মী যদি আমার কোনো ভোটারের সঙ্গে একটুও বেয়াদবি করে, আমার ওই কর্মীর নাম আমার কাছে জমা দেবেন, বাকি ব্যবস্থাটা আমি করব।’ এ ছাড়া স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘১৭ বছর আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আমরা আশা করেছিলাম, আমরা জনগণের একটা সরকার পাব, যারা বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করবে, গ্যাসের সমস্যা সমাধান করবে, আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাবে, জিনিসপত্রের দাম নাগালের মধ্যে রাখবে।’\n\nতিনি বলেন, ‘আমাদের এমন দুর্ভাগ্য, ৮০-৯০ টাকা কেজির নিচে সবজি নাই। ঢাকা শহরে একটা ডিমের দাম ১৫ টাকা। গরিব খাবে কী?’ এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই না কোনো চাঁদাবাজ আমার এলাকায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। চাঁদাবাজি বন্ধে আমি কোনো ছাড় দেব না।’\n\nমতবিনিময় সভায় স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। রুমিন ফারহানা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং সমাধানের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, আমি আপনাদের পাশে আছি। কোনো অন্যায় হলে সরাসরি আমাকে জানাবেন। আমি ব্যবস্থা নেব।’ সভায় চাঁদাবাজি, মাদক, সড়ক উন্নয়নসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।"}}},{"id":1289,"external_id":"news-1289","title":"চুয়েট সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক সদস্য অনুপস্থিত, বড় সিদ্ধান্ত হয়নি","description":"চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) টানা শাটডাউন ও অসহযোগ কর্মসূচির মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সভায় উপাচার্য ছাড়া চুয়েটের শিক্ষক সদস্য কেউ উপস্থিত ছিলেন না। সভায় অংশ নেওয়া সিন্ডিকেট সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাহিদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উপাচার্য ছাড়া চুয়েটের অন্য কোনো শিক্ষক সদস্য (ছয়জন) সভায় ছিলেন না। সভার বিষয়ে উপাচার্য নিজেই জানাবেন বলে তিনি বিস্তারিত বলতে চাননি।\n\nগত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে উপাচার্য পরিবর্তন নিয়ে আন্দোলন চলছে। গত সোমবার সকালে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁকে ভেতরে রেখে ভবনের ফটকে আবার তালা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের মুখে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর গত মঙ্গলবার উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে নিয়ে যায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ফিরে তিনি এ সভা আহ্বান করেন।\n\nচুয়েটের সিন্ডিকেটে উপাচার্যসহ সদস্য পদ ১৭টি। তবে সহ–উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের পদটি শূন্য। ১৫ জন সদস্যের মধ্যে কতজন উপস্থিত ছিলেন এ তথ্য জানা যায়নি। সভার সিদ্ধান্ত জানতে উপাচার্যের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠালেও সাড়া দেননি। ফলে ক্লাস-পরীক্ষা চালু কিংবা অচলাবস্থা নিরসনে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আজ ছিল শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক শাটডাউনের ২৫তম দিন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি এবং অসহযোগ কর্মসূচিও চলছে।\n\nসভা শেষে ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জন সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়। তাঁদের একজন সিন্ডিকেট সদস্য ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন। তিনি জানান, সভায় বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি বা যোগাযোগের ঘাটতি থাকলে তা দূর করার বিষয়েও সদস্যরা মতামত দিয়েছেন।\n\nচুয়েটের কোনো শিক্ষক না থাকা প্রসঙ্গে সিন্ডিকেট সদস্য ও চুয়েটের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান জানান, ছুটিতে থাকায় তিনি সভায় অংশ নেননি। অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামাল জানান, তাঁর মা অসুস্থ থাকায় তিনিও যোগ দেননি। অন্যদিকে চুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন, গণিত বিভাগের অধ্যাপক সুনীল ধর, নদী, বন্দর ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আসিফুল হক, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইব্রাহিম খানের মুঠোফোনে কল করে সাড়া পাওয়া যায়নি।\n\nএ ছাড়া চুয়েটের বাইরে আরেক সিন্ডিকেট সদস্য প্রকৌশলী ফিরোজ খাননূন ফারাজী জানান, ব্যস্ত থাকায় তিনি সভায় যোগ দিতে পারেননি। সিন্ডিকেটের অন্য সদস্য বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আইনাল হক, প্রকৌশলী খান আতাউর রহমান, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. সেকান্দার চৌধুরীর মুঠোফোনে কল করা হলেও তাঁরা ধরেননি। উল্লেখ্য, হাসপাতাল থেকে সার্কিট হাউসে ফিরেই সিন্ডিকেট সভা ডাকলেন চুয়েট উপাচার্য।","description_word_count":435,"url":"https://prelive.starplaybd.com/news/1289","json_url":"https://prelive.starplaybd.com/api/news/1289.json","image":"https://prelive.starplaybd.com/media/4e9e3e4e189dc9816e21859d423cc0fdc3f8bf6d5b63ab4906897f9fb60d3861.jpg","image_status":"stored","categories":["bangladesh"],"published_at":"2026-10-16T16:08:01.000Z","collected_at":"2026-10-16T18:01:34Z","rewritten_at":"2026-10-16T18:01:45Z","variants":{"balanced":{"title":"চুয়েট সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক সদস্য অনুপস্থিত, বড় সিদ্ধান্ত হয়নি","body":"চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) টানা শাটডাউন ও অসহযোগ কর্মসূচির মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সভায় উপাচার্য ছাড়া চুয়েটের শিক্ষক সদস্য কেউ উপস্থিত ছিলেন না। সভায় অংশ নেওয়া সিন্ডিকেট সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাহিদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উপাচার্য ছাড়া চুয়েটের অন্য কোনো শিক্ষক সদস্য (ছয়জন) সভায় ছিলেন না। সভার বিষয়ে উপাচার্য নিজেই জানাবেন বলে তিনি বিস্তারিত বলতে চাননি।\n\nগত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে উপাচার্য পরিবর্তন নিয়ে আন্দোলন চলছে। গত সোমবার সকালে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁকে ভেতরে রেখে ভবনের ফটকে আবার তালা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের মুখে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর গত মঙ্গলবার উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে নিয়ে যায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ফিরে তিনি এ সভা আহ্বান করেন।\n\nচুয়েটের সিন্ডিকেটে উপাচার্যসহ সদস্য পদ ১৭টি। তবে সহ–উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের পদটি শূন্য। ১৫ জন সদস্যের মধ্যে কতজন উপস্থিত ছিলেন এ তথ্য জানা যায়নি। সভার সিদ্ধান্ত জানতে উপাচার্যের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠালেও সাড়া দেননি। ফলে ক্লাস-পরীক্ষা চালু কিংবা অচলাবস্থা নিরসনে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আজ ছিল শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক শাটডাউনের ২৫তম দিন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি এবং অসহযোগ কর্মসূচিও চলছে।\n\nসভা শেষে ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জন সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়। তাঁদের একজন সিন্ডিকেট সদস্য ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন। তিনি জানান, সভায় বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি বা যোগাযোগের ঘাটতি থাকলে তা দূর করার বিষয়েও সদস্যরা মতামত দিয়েছেন।\n\nচুয়েটের কোনো শিক্ষক না থাকা প্রসঙ্গে সিন্ডিকেট সদস্য ও চুয়েটের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান জানান, ছুটিতে থাকায় তিনি সভায় অংশ নেননি। অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামাল জানান, তাঁর মা অসুস্থ থাকায় তিনিও যোগ দেননি। অন্যদিকে চুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন, গণিত বিভাগের অধ্যাপক সুনীল ধর, নদী, বন্দর ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আসিফুল হক, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইব্রাহিম খানের মুঠোফোনে কল করে সাড়া পাওয়া যায়নি।\n\nএ ছাড়া চুয়েটের বাইরে আরেক সিন্ডিকেট সদস্য প্রকৌশলী ফিরোজ খাননূন ফারাজী জানান, ব্যস্ত থাকায় তিনি সভায় যোগ দিতে পারেননি। সিন্ডিকেটের অন্য সদস্য বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আইনাল হক, প্রকৌশলী খান আতাউর রহমান, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. সেকান্দার চৌধুরীর মুঠোফোনে কল করা হলেও তাঁরা ধরেননি। উল্লেখ্য, হাসপাতাল থেকে সার্কিট হাউসে ফিরেই সিন্ডিকেট সভা ডাকলেন চুয়েট উপাচার্য।"}}},{"id":1285,"external_id":"news-1285","title":"স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগিতার সেরাদের জাতিসংঘ সম্মেলনে পাঠাবে সরকার: মাহদী আমিন","description":"দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে সেরাদের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ জন্য আগামী বছর থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। শুক্রবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।\n\nমাহদী আমিন বলেন, দেশব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার আয়োজনে দেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণেরা অংশ নেবে। যারা চূড়ান্তভাবে বিজয়ী ও সেরা হিসেবে উঠে আসবে, সরকার নিজস্ব অর্থায়নে তাদের জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। যাতে তরুণেরা বিশ্বমঞ্চে লাল সবুজের পতাকার প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আগামী বছর থেকে এই প্রস্তাব প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়নে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করবে।\n\nতরুণদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যুগোপযোগী দক্ষতা তৈরি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে নীতি প্রণয়নের প্রতিটি স্তরে তরুণদের প্রত্যাশা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তরুণদের প্রস্তাবনা ও উদ্ভাবনী ধারণা শোনার লক্ষ্যে আরও বেশি ‘নীতি সংলাপ’ আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।\n\nনিজের শিক্ষার্থী জীবনের স্মৃতিচারণা করে মাহদী আমিন জানান, ২০০৭ সালে সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের বারুক কলেজে পড়ার সময় তিনিও ‘মডেল ইউনাইটেড নেশনস’-এ অংশ নিয়েছিলেন এবং কলেজের প্রতিনিধিত্ব করে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে গিয়েছিলেন। এই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি তরুণদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির ওপর জোর দেন।\n\nঅনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আবদুল আওয়াল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডেভিড ডাউল্যান্ড উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি তরুণদের এই আয়োজনে সরকারের সমর্থন ও গুরুত্বের প্রতিফলন ঘটায়।\n\nসরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের তরুণেরা জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিজেদের মেধা ও দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাবে। এতে তাদের বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার সম্ভাবনা তৈরি হবে। মাহদী আমিনের এই ঘোষণা তরুণ সমাজের মধ্যে নতুন আশা ও উদ্দীপনা সঞ্চার করেছে।","description_word_count":309,"url":"https://prelive.starplaybd.com/news/1285","json_url":"https://prelive.starplaybd.com/api/news/1285.json","image":"https://prelive.starplaybd.com/media/f31b608d86e03957314e7af526a1fe1eafe7c05e28b6ab15c8148556886b4d27.jpg","image_status":"stored","categories":["politics"],"published_at":"2026-10-16T16:04:27.000Z","collected_at":"2026-10-16T17:02:10Z","rewritten_at":"2026-10-16T17:02:23Z","variants":{"balanced":{"title":"স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগিতার সেরাদের জাতিসংঘ সম্মেলনে পাঠাবে সরকার: মাহদী আমিন","body":"দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে সেরাদের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ জন্য আগামী বছর থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। শুক্রবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।\n\nমাহদী আমিন বলেন, দেশব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার আয়োজনে দেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণেরা অংশ নেবে। যারা চূড়ান্তভাবে বিজয়ী ও সেরা হিসেবে উঠে আসবে, সরকার নিজস্ব অর্থায়নে তাদের জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। যাতে তরুণেরা বিশ্বমঞ্চে লাল সবুজের পতাকার প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আগামী বছর থেকে এই প্রস্তাব প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়নে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করবে।\n\nতরুণদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যুগোপযোগী দক্ষতা তৈরি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে নীতি প্রণয়নের প্রতিটি স্তরে তরুণদের প্রত্যাশা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তরুণদের প্রস্তাবনা ও উদ্ভাবনী ধারণা শোনার লক্ষ্যে আরও বেশি ‘নীতি সংলাপ’ আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।\n\nনিজের শিক্ষার্থী জীবনের স্মৃতিচারণা করে মাহদী আমিন জানান, ২০০৭ সালে সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের বারুক কলেজে পড়ার সময় তিনিও ‘মডেল ইউনাইটেড নেশনস’-এ অংশ নিয়েছিলেন এবং কলেজের প্রতিনিধিত্ব করে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে গিয়েছিলেন। এই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি তরুণদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির ওপর জোর দেন।\n\nঅনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আবদুল আওয়াল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডেভিড ডাউল্যান্ড উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি তরুণদের এই আয়োজনে সরকারের সমর্থন ও গুরুত্বের প্রতিফলন ঘটায়।\n\nসরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের তরুণেরা জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিজেদের মেধা ও দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাবে। এতে তাদের বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার সম্ভাবনা তৈরি হবে। মাহদী আমিনের এই ঘোষণা তরুণ সমাজের মধ্যে নতুন আশা ও উদ্দীপনা সঞ্চার করেছে।"}}},{"id":1275,"external_id":"news-1275","title":"এক লুটেরার হাত থেকে অন্য লুটেরার হাতে ক্ষমতা গেছে: জামায়াত আমির","description":"জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার বিচার ও শিক্ষা বিভাগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয়করণের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দেখানো পথেই হাঁটছে। এভাবে চলতে থাকলে বর্তমান সরকারের পরিণতিও শেখ হাসিনার সরকারের মতো হবে। শুক্রবার সকালে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে টঙ্গীর শহীদ আবদুল মালেক মিলনায়তনে আয়োজিত ২০২৬ সালের রুকন (সদস্য) সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।\n\nশফিকুর রহমান আরও বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এক লুটেরার হাত থেকে অন্য লুটেরার হাতে ক্ষমতা গেছে। সরকারকে উদ্দেশ করে জামায়াত আমির বলেন, দেশে এখনো মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। গণভোটকে অস্বীকার করা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে। সমাজে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অন্যায় বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।\n\nবিএনপিকে উদ্দেশ করে শফিকুর রহমান বলেন, বিগত নির্বাচনের আগে একটি দল বলেছিল, নির্বাচন হলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে; কিন্তু বাস্তবে সমস্যা দ্বিগুণ হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ২০২৪ সালে জামায়াতে ইসলামী ও তরুণ সমাজের প্রত্যাশা ছিল বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার; কিন্তু বর্তমান সরকার বৈষম্যের নতুন মাত্রা যোগ করছে।\n\nতিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে দলীয়করণ, লুটপাট এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভাগ বসানোর ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এক লুটেরার হাত থেকে অন্য লুটেরার হাতে ক্ষমতা গেছে। এ সময় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জানমাল দিয়ে কাজ করে বিজয় নিশ্চিত করতে নেতা–কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।\n\nশফিকুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষমতাসীন বিএনপির পছন্দের লোক বসানো হচ্ছে। এর ফলে দেশে কার্যত দুই ধরনের সরকারব্যবস্থা চলছে—একটি জনগণের ভোটের ভিত্তিতে, অন্যটি বিএনপির পছন্দে। পছন্দের লোক বসিয়ে সিন্ডিকেট তৈরির মাধ্যমে স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।\n\nজামায়াত আমিরের এই বক্তব্য আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তিনি ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনা করে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বদলে দলীয় পছন্দের লোক বসানোর ফলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। নেতা–কর্মীদের প্রতি তিনি নির্বাচনে সততা ও dedication বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান।","description_word_count":316,"url":"https://prelive.starplaybd.com/news/1275","json_url":"https://prelive.starplaybd.com/api/news/1275.json","image":"https://prelive.starplaybd.com/media/90144d5b86e4903ebb0d7c5ef23194157803e56d23b4b9ac38f45aca3f787b4b.jpg","image_status":"stored","categories":["bangladesh"],"published_at":"2026-10-16T15:46:32.000Z","collected_at":"2026-10-16T16:01:19Z","rewritten_at":"2026-10-16T16:01:28Z","variants":{"balanced":{"title":"এক লুটেরার হাত থেকে অন্য লুটেরার হাতে ক্ষমতা গেছে: জামায়াত আমির","body":"জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার বিচার ও শিক্ষা বিভাগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয়করণের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দেখানো পথেই হাঁটছে। এভাবে চলতে থাকলে বর্তমান সরকারের পরিণতিও শেখ হাসিনার সরকারের মতো হবে। শুক্রবার সকালে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে টঙ্গীর শহীদ আবদুল মালেক মিলনায়তনে আয়োজিত ২০২৬ সালের রুকন (সদস্য) সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।\n\nশফিকুর রহমান আরও বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এক লুটেরার হাত থেকে অন্য লুটেরার হাতে ক্ষমতা গেছে। সরকারকে উদ্দেশ করে জামায়াত আমির বলেন, দেশে এখনো মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। গণভোটকে অস্বীকার করা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে। সমাজে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অন্যায় বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।\n\nবিএনপিকে উদ্দেশ করে শফিকুর রহমান বলেন, বিগত নির্বাচনের আগে একটি দল বলেছিল, নির্বাচন হলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে; কিন্তু বাস্তবে সমস্যা দ্বিগুণ হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ২০২৪ সালে জামায়াতে ইসলামী ও তরুণ সমাজের প্রত্যাশা ছিল বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার; কিন্তু বর্তমান সরকার বৈষম্যের নতুন মাত্রা যোগ করছে।\n\nতিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে দলীয়করণ, লুটপাট এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভাগ বসানোর ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এক লুটেরার হাত থেকে অন্য লুটেরার হাতে ক্ষমতা গেছে। এ সময় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জানমাল দিয়ে কাজ করে বিজয় নিশ্চিত করতে নেতা–কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।\n\nশফিকুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষমতাসীন বিএনপির পছন্দের লোক বসানো হচ্ছে। এর ফলে দেশে কার্যত দুই ধরনের সরকারব্যবস্থা চলছে—একটি জনগণের ভোটের ভিত্তিতে, অন্যটি বিএনপির পছন্দে। পছন্দের লোক বসিয়ে সিন্ডিকেট তৈরির মাধ্যমে স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।\n\nজামায়াত আমিরের এই বক্তব্য আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তিনি ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনা করে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বদলে দলীয় পছন্দের লোক বসানোর ফলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। নেতা–কর্মীদের প্রতি তিনি নির্বাচনে সততা ও dedication বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান।"}}},{"id":1276,"external_id":"news-1276","title":"রিয়াদ বিমানবন্দর চালু, ঢাকা থেকে এক সপ্তাহে ১০৭ ফ্লাইট ব্যাহত","description":"সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে। ১০ অক্টোবর ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির হামলার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত তিনটা পর্যন্ত এটি বন্ধ ছিল। তবে এখনই রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চালু হচ্ছে না। শুক্রবার সন্ধ্যায় কিং খালেদ বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, এদিন মোট ৬৭৬টি ফ্লাইটের সূচি ছিল। এর মধ্যে স্থানীয় সময় বেলা ২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ৮৫ শতাংশ ফ্লাইট যথাসময়ে ছেড়ে গেছে এবং ৮৩ শতাংশ ফ্লাইট বিমানবন্দরে পৌঁছেছে।\n\nরিয়াদ ও দাম্মাম রুটে বিমানের ফ্লাইট বন্ধ থাকার ঘোষণা রয়েছে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। অন্যদিকে রিয়াদগামী বেসরকারি ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বন্ধ ২১ অক্টোবর পর্যন্ত। এদিকে গত শনিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে মোট ১০৭টি ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এর মধ্যে কিছু ফ্লাইট বাতিল ও কিছু স্থগিত করা হয়েছে। এ কারণে ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বেবিচক শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটায় এই তথ্য দেয়।\n\nবেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়ার ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে। সব মিলিয়ে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা ৪৪। অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ইজিপ্ট এয়ারের ১টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ৪টি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে। এসব ট্রানজিট ফ্লাইটের সংখ্যা ৬৩।\n\nবিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন। মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭-এর পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ যুক্ত করায় প্রতি ফ্লাইটে আসন বেড়েছে ১৪৮টি। পাশাপাশি জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাত্রীদের টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য বিমানের নিকটস্থ বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।\n\nঢাকা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের যাত্রীরা সৌদি আরব যাচ্ছেন জেদ্দা ও মদিনার ফ্লাইটে। শুক্রবার দুপুরে শাহজালাল বিমানবন্দরসংলগ্ন বিমানের বলাকা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, রিয়াদ ও দাম্মামের ফ্লাইট পরিবর্তন করতে বলাকায় আসছেন বিমানের যাত্রীরা। বলাকার সামনে কথা হয় রিয়াদগামী যাত্রী আবদুস সালামের সঙ্গে। গাজীপুর থেকে আসা এই যাত্রী বলেন, “১৭ তারিখ (আজ) রিয়াদের ফ্লাইট ছিল। সেটি পরিবর্তন করতে এসেছি। জেদ্দা হয়ে এখন কর্মস্থলে ফিরতে হবে। আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন রয়েছেন, সবাই একসঙ্গে যাব।” শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বিমানবন্দরে এমন ১০ জনের বেশি যাত্রীর সঙ্গে কথা হয়।\n\nরাত পৌনে একটায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রিয়াদগামী একটি ফ্লাইটের যাত্রী মো. হুমায়ূন মিয়া। ফ্লাইট ধরতে বেলা দুইটায় বিমানবন্দরে আসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই বাসিন্দা। তিনি বলেন, “সকালে এয়ার অ্যারাবিয়ার অফিসে গিয়েছি। তারা টিকিট দেখে বলেছে, ‘ফ্লাইট যাবে। কোনো সমস্যা নেই।’ সে জন্য বিমানবন্দরে চলে এসেছি। রোববার ছুটি শেষ, ফিরতে হবে।” হুমায়ূন জানান, তিনি চার বছর ধরে রিয়াদের একটি দোকানে দরজির কাজ করছেন। পাঁচ মাসের ছুটিতে তিনি দেশে এসেছিলেন। বিমানের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত তাঁরা যাত্রীদের টিকিট পরিবর্তন-সংক্রান্ত সেবা দিচ্ছেন।","description_word_count":451,"url":"https://prelive.starplaybd.com/news/1276","json_url":"https://prelive.starplaybd.com/api/news/1276.json","image":"https://prelive.starplaybd.com/media/4aa3a658186692529ec3393a8bc9a0c00ef116cf3b296bb529ac8222ae3bd35f.jpg","image_status":"stored","categories":["bangladesh"],"published_at":"2026-10-16T15:43:08.000Z","collected_at":"2026-10-16T16:01:31Z","rewritten_at":"2026-10-16T16:01:41Z","variants":{"balanced":{"title":"রিয়াদ বিমানবন্দর চালু, ঢাকা থেকে এক সপ্তাহে ১০৭ ফ্লাইট ব্যাহত","body":"সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে। ১০ অক্টোবর ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির হামলার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত তিনটা পর্যন্ত এটি বন্ধ ছিল। তবে এখনই রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চালু হচ্ছে না। শুক্রবার সন্ধ্যায় কিং খালেদ বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, এদিন মোট ৬৭৬টি ফ্লাইটের সূচি ছিল। এর মধ্যে স্থানীয় সময় বেলা ২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ৮৫ শতাংশ ফ্লাইট যথাসময়ে ছেড়ে গেছে এবং ৮৩ শতাংশ ফ্লাইট বিমানবন্দরে পৌঁছেছে।\n\nরিয়াদ ও দাম্মাম রুটে বিমানের ফ্লাইট বন্ধ থাকার ঘোষণা রয়েছে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। অন্যদিকে রিয়াদগামী বেসরকারি ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বন্ধ ২১ অক্টোবর পর্যন্ত। এদিকে গত শনিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে মোট ১০৭টি ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এর মধ্যে কিছু ফ্লাইট বাতিল ও কিছু স্থগিত করা হয়েছে। এ কারণে ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বেবিচক শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটায় এই তথ্য দেয়।\n\nবেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়ার ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে। সব মিলিয়ে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা ৪৪। অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ইজিপ্ট এয়ারের ১টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ৪টি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে। এসব ট্রানজিট ফ্লাইটের সংখ্যা ৬৩।\n\nবিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন। মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭-এর পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ যুক্ত করায় প্রতি ফ্লাইটে আসন বেড়েছে ১৪৮টি। পাশাপাশি জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাত্রীদের টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য বিমানের নিকটস্থ বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।\n\nঢাকা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের যাত্রীরা সৌদি আরব যাচ্ছেন জেদ্দা ও মদিনার ফ্লাইটে। শুক্রবার দুপুরে শাহজালাল বিমানবন্দরসংলগ্ন বিমানের বলাকা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, রিয়াদ ও দাম্মামের ফ্লাইট পরিবর্তন করতে বলাকায় আসছেন বিমানের যাত্রীরা। বলাকার সামনে কথা হয় রিয়াদগামী যাত্রী আবদুস সালামের সঙ্গে। গাজীপুর থেকে আসা এই যাত্রী বলেন, “১৭ তারিখ (আজ) রিয়াদের ফ্লাইট ছিল। সেটি পরিবর্তন করতে এসেছি। জেদ্দা হয়ে এখন কর্মস্থলে ফিরতে হবে। আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন রয়েছেন, সবাই একসঙ্গে যাব।” শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বিমানবন্দরে এমন ১০ জনের বেশি যাত্রীর সঙ্গে কথা হয়।\n\nরাত পৌনে একটায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রিয়াদগামী একটি ফ্লাইটের যাত্রী মো. হুমায়ূন মিয়া। ফ্লাইট ধরতে বেলা দুইটায় বিমানবন্দরে আসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই বাসিন্দা। তিনি বলেন, “সকালে এয়ার অ্যারাবিয়ার অফিসে গিয়েছি। তারা টিকিট দেখে বলেছে, ‘ফ্লাইট যাবে। কোনো সমস্যা নেই।’ সে জন্য বিমানবন্দরে চলে এসেছি। রোববার ছুটি শেষ, ফিরতে হবে।” হুমায়ূন জানান, তিনি চার বছর ধরে রিয়াদের একটি দোকানে দরজির কাজ করছেন। পাঁচ মাসের ছুটিতে তিনি দেশে এসেছিলেন। বিমানের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত তাঁরা যাত্রীদের টিকিট পরিবর্তন-সংক্রান্ত সেবা দিচ্ছেন।"}}},{"id":1279,"external_id":"news-1279","title":"নির্বাচনের পর হামলা-লুটপাটে জড়িতদের তালিকা জামায়াতের কাছে সংরক্ষিত আছে: শফিকুর রহমান","description":"নির্বাচনের দিন থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা ও দোকানপাট লুটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তালিকা দলের কাছে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন থেকে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিভিন্নভাবে নাজেহাল করছেন। কারও পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে, অনেকের বাড়িঘরে হামলা হয়েছে, দোকানপাট লুট করা হয়েছে এবং ভয় দেখিয়ে চাঁদা নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার তালিকা দলের কাছে সংরক্ষিত আছে বলে তিনি জানান।\n\nআজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর বা পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন জামায়াতের বরগুনা জেলার সাবেক সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসানকে দেখতে গিয়ে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘দল করা যে কারও অধিকার, এটা কোনো অপরাধ নয়। বুদ্ধি ও যুক্তির লড়াইয়ে হাত চলবে কেন? গায়ের জোর কেন? এটা আমরা দেখতে চাই না। এসব ঘটনায় আমি খুবই বিস্মিত ও ব্যথিত।’\n\nবিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য বরগুনার পুলিশ সুপারকে (এসপি) অনুরোধ করা হয়েছে জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘রাজনীতি হবে রাজনীতির ভাষায়, সন্ত্রাসের ভাষায় নয়। সারা দেশে যেন এই চিত্র দেখা যায়।’ তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই ঘটনার পর আর কেউ যেন ফুলের পাপড়ি দিয়েও কাউকে আঘাত না করে।\n\nজামায়াতের আমিরের এই বক্তব্য নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, লুটপাট ও চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা। শফিকুর রহমান বলেন, দল করা কারও অধিকার, এটি অপরাধ নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সংলাপ ও যুক্তির মাধ্যমে তা নিরসন করা উচিত।\n\nতিনি আরও বলেন, নির্বাচনের দিন থেকে সংঘটিত এসব হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের তালিকা দলের কাছে সংরক্ষিত আছে। প্রয়োজনে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে। তিনি বরগুনার পুলিশ সুপারের কাছে ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।\n\nজামায়াতের আমির বলেন, ‘রাজনীতি হবে রাজনীতির ভাষায়, সন্ত্রাসের ভাষায় নয়।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ঘটনার পর আর কেউ ফুলের পাপড়ি দিয়েও কাউকে আঘাত করবে না। তিনি সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানান এবং রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে সব দলের প্রতি আহ্বান জানান।","description_word_count":330,"url":"https://prelive.starplaybd.com/news/1279","json_url":"https://prelive.starplaybd.com/api/news/1279.json","image":"https://prelive.starplaybd.com/media/a46f813fec7d3b2f819b25740ed4e494b85c5e991180bbbaee1498d76f7f23d1.jpg","image_status":"stored","categories":["politics"],"published_at":"2026-10-16T15:42:57.000Z","collected_at":"2026-10-16T16:02:21Z","rewritten_at":"2026-10-16T16:02:30Z","variants":{"balanced":{"title":"নির্বাচনের পর হামলা-লুটপাটে জড়িতদের তালিকা জামায়াতের কাছে সংরক্ষিত আছে: শফিকুর রহমান","body":"নির্বাচনের দিন থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা ও দোকানপাট লুটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তালিকা দলের কাছে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন থেকে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিভিন্নভাবে নাজেহাল করছেন। কারও পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে, অনেকের বাড়িঘরে হামলা হয়েছে, দোকানপাট লুট করা হয়েছে এবং ভয় দেখিয়ে চাঁদা নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার তালিকা দলের কাছে সংরক্ষিত আছে বলে তিনি জানান।\n\nআজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর বা পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন জামায়াতের বরগুনা জেলার সাবেক সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসানকে দেখতে গিয়ে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘দল করা যে কারও অধিকার, এটা কোনো অপরাধ নয়। বুদ্ধি ও যুক্তির লড়াইয়ে হাত চলবে কেন? গায়ের জোর কেন? এটা আমরা দেখতে চাই না। এসব ঘটনায় আমি খুবই বিস্মিত ও ব্যথিত।’\n\nবিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য বরগুনার পুলিশ সুপারকে (এসপি) অনুরোধ করা হয়েছে জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘রাজনীতি হবে রাজনীতির ভাষায়, সন্ত্রাসের ভাষায় নয়। সারা দেশে যেন এই চিত্র দেখা যায়।’ তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই ঘটনার পর আর কেউ যেন ফুলের পাপড়ি দিয়েও কাউকে আঘাত না করে।\n\nজামায়াতের আমিরের এই বক্তব্য নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, লুটপাট ও চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা। শফিকুর রহমান বলেন, দল করা কারও অধিকার, এটি অপরাধ নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সংলাপ ও যুক্তির মাধ্যমে তা নিরসন করা উচিত।\n\nতিনি আরও বলেন, নির্বাচনের দিন থেকে সংঘটিত এসব হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের তালিকা দলের কাছে সংরক্ষিত আছে। প্রয়োজনে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে। তিনি বরগুনার পুলিশ সুপারের কাছে ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।\n\nজামায়াতের আমির বলেন, ‘রাজনীতি হবে রাজনীতির ভাষায়, সন্ত্রাসের ভাষায় নয়।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ঘটনার পর আর কেউ ফুলের পাপড়ি দিয়েও কাউকে আঘাত করবে না। তিনি সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানান এবং রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে সব দলের প্রতি আহ্বান জানান।"}}},{"id":1278,"external_id":"news-1278","title":"রাষ্ট্র সংস্কারে ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাব বাধা: টিআইবি","description":"জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র সংস্কারের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এ মন্তব্য করেছে। সংস্থাটি বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনা ও সাহসী উদ্যোগের ঘাটতি এবং আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধের সঙ্গে আপসের কারণে রাষ্ট্র সংস্কারের ভিত্তি তৈরি হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরেও সংবিধান সংশোধন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ক্ষমতাসীন জোটের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বিরোধী জোটও জনস্বার্থে রাষ্ট্র সংস্কারে সহায়ক ভূমিকা রাখার বদলে দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যস্ত রয়েছে।\n\nটিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারে রাষ্ট্র সংস্কার এবং জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ছিল। কিন্তু নির্বাচনে বিজয়ী দলের সংসদ সদস্যরা প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় সংস্কারপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, সংবিধান সংশোধন, আইন প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রক্রিয়া এখন ক্ষমতাসীন জোটের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।\n\nঅন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে বর্তমান সরকার অনেকগুলোকে আইনে পরিণত করেছে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, যেসব অধ্যাদেশ নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা আরও জোরদার করেছে, সেগুলোই পাস করা হয়েছে। অন্যদিকে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক অধ্যাদেশ রহিত বা স্থগিত করা হয়েছে। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক শক্তির যোগসাজশে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের চর্চায় ‘এবার আমাদের পালা’ ধরনের প্রবণতা রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলছে।\n\nবিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি। বিবৃতিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিত করার মাধ্যমে সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংশোধন অধ্যাদেশ প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ আইনে পরিণত না করে ২০০৪ সালের আইনে ফিরে যাওয়ায় কমিশনের প্রতি আস্থার সংকট কাটানোর সুযোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।\n\nজাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, কমিশন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ রহিত করে সম্প্রতি যে আইন করা হয়েছে, তা স্বাধীন ও কার্যকর কমিশন প্রতিষ্ঠার জন–আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ছাড়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিল করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ী সংস্থাগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। র‌্যাব বিলুপ্তির নামে নতুন পরিচয়ে সংস্থাটিকে আরও ক্ষমতাশালী করারও সমালোচনা করেছে টিআইবি। পাশাপাশি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য থাকলেও এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেই বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।\n\nনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশের বিষয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে সব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সম্পদের বিবরণী প্রকাশ এবং তা নিয়মিত হালনাগাদের বিধান নিয়ে মতৈক্য হয়েছিল। কিন্তু সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর এ ধরনের নির্দেশনা বা চর্চার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এসব পদক্ষেপ নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বদলে জবাবদিহিহীন ক্ষমতাকাঠামো প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি তৈরি করছে। কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দুদক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পরিণতি থেকে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো কেন শিক্ষা নিচ্ছে না, সে প্রশ্নও তোলেন ইফতেখারুজ্জামান। বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় বাংলাদেশের বিভাজিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে নজিরবিহীন রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল। রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্য অর্জনে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি একই ধরনের সদিচ্ছা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।","description_word_count":487,"url":"https://prelive.starplaybd.com/news/1278","json_url":"https://prelive.starplaybd.com/api/news/1278.json","image":"https://prelive.starplaybd.com/media/d1399f36957802c0e297fb3e80d66d6c94736115b4bb6d74760c8b956a7ff19a.jpg","image_status":"stored","categories":["politics"],"published_at":"2026-10-16T15:34:35.000Z","collected_at":"2026-10-16T16:02:08Z","rewritten_at":"2026-10-16T16:02:18Z","variants":{"balanced":{"title":"রাষ্ট্র সংস্কারে ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাব বাধা: টিআইবি","body":"জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র সংস্কারের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এ মন্তব্য করেছে। সংস্থাটি বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনা ও সাহসী উদ্যোগের ঘাটতি এবং আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধের সঙ্গে আপসের কারণে রাষ্ট্র সংস্কারের ভিত্তি তৈরি হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরেও সংবিধান সংশোধন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ক্ষমতাসীন জোটের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বিরোধী জোটও জনস্বার্থে রাষ্ট্র সংস্কারে সহায়ক ভূমিকা রাখার বদলে দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যস্ত রয়েছে।\n\nটিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারে রাষ্ট্র সংস্কার এবং জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ছিল। কিন্তু নির্বাচনে বিজয়ী দলের সংসদ সদস্যরা প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় সংস্কারপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, সংবিধান সংশোধন, আইন প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রক্রিয়া এখন ক্ষমতাসীন জোটের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।\n\nঅন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে বর্তমান সরকার অনেকগুলোকে আইনে পরিণত করেছে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, যেসব অধ্যাদেশ নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা আরও জোরদার করেছে, সেগুলোই পাস করা হয়েছে। অন্যদিকে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক অধ্যাদেশ রহিত বা স্থগিত করা হয়েছে। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক শক্তির যোগসাজশে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের চর্চায় ‘এবার আমাদের পালা’ ধরনের প্রবণতা রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলছে।\n\nবিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি। বিবৃতিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিত করার মাধ্যমে সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংশোধন অধ্যাদেশ প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ আইনে পরিণত না করে ২০০৪ সালের আইনে ফিরে যাওয়ায় কমিশনের প্রতি আস্থার সংকট কাটানোর সুযোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।\n\nজাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, কমিশন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ রহিত করে সম্প্রতি যে আইন করা হয়েছে, তা স্বাধীন ও কার্যকর কমিশন প্রতিষ্ঠার জন–আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ছাড়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিল করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ী সংস্থাগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। র‌্যাব বিলুপ্তির নামে নতুন পরিচয়ে সংস্থাটিকে আরও ক্ষমতাশালী করারও সমালোচনা করেছে টিআইবি। পাশাপাশি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য থাকলেও এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেই বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।\n\nনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশের বিষয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে সব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সম্পদের বিবরণী প্রকাশ এবং তা নিয়মিত হালনাগাদের বিধান নিয়ে মতৈক্য হয়েছিল। কিন্তু সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর এ ধরনের নির্দেশনা বা চর্চার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এসব পদক্ষেপ নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বদলে জবাবদিহিহীন ক্ষমতাকাঠামো প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি তৈরি করছে। কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দুদক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পরিণতি থেকে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো কেন শিক্ষা নিচ্ছে না, সে প্রশ্নও তোলেন ইফতেখারুজ্জামান। বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় বাংলাদেশের বিভাজিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে নজিরবিহীন রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল। রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্য অর্জনে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি একই ধরনের সদিচ্ছা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।"}}},{"id":1277,"external_id":"news-1277","title":"যুব উন্নয়ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস: এসআরবি’র অভিযানে ৭ জন গ্রেপ্তার","description":"যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মচারী রয়েছেন। শুক্রবার এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।\n\nসংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে নূর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি অস্পষ্ট প্রশ্নপত্র পান। পরে সকাল সোয়া ৬টায় সেই প্রশ্নপত্র স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপর তারা উত্তরপত্র তৈরি করে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। এই চক্রে সরকারি চাকরিজীবীরা জড়িত থাকায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে। এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্ত চলছে।\n\nগ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক কর্মচারী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মচারী এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মচারী। বাকি চারজন বেসরকারি ব্যক্তি। তারা সবাই প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিক্রির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে এসআরবি দাবি করেছে। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে।\n\nঘটনার বিবরণে জানা যায়, ১০ অক্টোবর ভোররাতে নূর মোহাম্মদ অস্পষ্ট প্রশ্নপত্র পান। তিনি তা স্পষ্ট করার জন্য চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সকাল সোয়া ৬টায় প্রশ্নপত্রটি স্পষ্ট আকারে পাওয়া যায়। এরপর চক্রের সদস্যরা উত্তরপত্র তৈরি করে তা ৮ থেকে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। এই কাজে সরকারি চাকরিজীবীরা সহায়তা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।\n\nএসআরবি-৩ এর অধিনায়ক আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্রের কপি, উত্তরপত্রের খসড়া এবং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে আরও তথ্য পাওয়া গেলে অন্যদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি চাকরিতে দুর্নীতি ও অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।\n\nএ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এসআরবি কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি চালানো হবে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।","description_word_count":320,"url":"https://prelive.starplaybd.com/news/1277","json_url":"https://prelive.starplaybd.com/api/news/1277.json","image":"https://prelive.starplaybd.com/media/776f3dfab21522b7c9ec8050997bfdd77577152358da2d6087221c6bbdbb377a.jpg","image_status":"stored","categories":["bangladesh"],"published_at":"2026-10-16T15:12:06.000Z","collected_at":"2026-10-16T16:01:43Z","rewritten_at":"2026-10-16T16:02:02Z","variants":{"balanced":{"title":"যুব উন্নয়ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস: এসআরবি’র অভিযানে ৭ জন গ্রেপ্তার","body":"যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মচারী রয়েছেন। শুক্রবার এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।\n\nসংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে নূর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি অস্পষ্ট প্রশ্নপত্র পান। পরে সকাল সোয়া ৬টায় সেই প্রশ্নপত্র স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপর তারা উত্তরপত্র তৈরি করে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। এই চক্রে সরকারি চাকরিজীবীরা জড়িত থাকায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে। এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্ত চলছে।\n\nগ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক কর্মচারী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মচারী এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মচারী। বাকি চারজন বেসরকারি ব্যক্তি। তারা সবাই প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিক্রির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে এসআরবি দাবি করেছে। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে।\n\nঘটনার বিবরণে জানা যায়, ১০ অক্টোবর ভোররাতে নূর মোহাম্মদ অস্পষ্ট প্রশ্নপত্র পান। তিনি তা স্পষ্ট করার জন্য চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সকাল সোয়া ৬টায় প্রশ্নপত্রটি স্পষ্ট আকারে পাওয়া যায়। এরপর চক্রের সদস্যরা উত্তরপত্র তৈরি করে তা ৮ থেকে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। এই কাজে সরকারি চাকরিজীবীরা সহায়তা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।\n\nএসআরবি-৩ এর অধিনায়ক আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্রের কপি, উত্তরপত্রের খসড়া এবং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে আরও তথ্য পাওয়া গেলে অন্যদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি চাকরিতে দুর্নীতি ও অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।\n\nএ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এসআরবি কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি চালানো হবে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"}}},{"id":1271,"external_id":"news-1271","title":"মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: বাংলাদেশ আগে জানত না, তথ্য চেয়ে সৌদিকে চিঠি","description":"সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় মসজিদ এলাকায় ‘অনৈতিক’ কাজের দায়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি আগে জানত না বাংলাদেশ। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশ বিষয়টি জানতে পারে। এরপর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গতকাল বৃহস্পতিবার চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।\n\nআজ শুক্রবার বিকেলে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই বিষয়টি তাদের নজরে আসে। এরপর গতকাল জেদ্দার কনস্যুলেট থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।\n\nসৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) গত বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার তথ্য নিশ্চিত করে। জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সৌদি নিরাপত্তাবাহিনী তাঁদের গ্রেপ্তার করেছিল।\n\nপ্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে ওই দুজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে আদালতে পাঠানো হয়। শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘তাআজির’ অর্থাৎ বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তির বিধানে আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করা এবং যে পরিস্থিতিতে অপরাধ ঘটেছে, তা বিবেচনায় নিয়েই বিচারক এ শাস্তি দেন বলে জানানো হয়েছে। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখলে তা চূড়ান্ত রূপ পায় এবং রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ জারি হয়।\n\nসৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় পবিত্রতা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শরিয়াহ আইন কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে পবিত্র স্থানে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সৌদি আরব থেকে বেসরকারি সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে জেদ্দার আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া চলছিল। আর বিচারপ্রক্রিয়া চলার সময় বাংলাদেশের দুজন বিশিষ্ট নাগরিক দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছেন।\n\nপ্রসঙ্গত কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদে পক্ষভুক্ত বাংলাদেশ ও সৌদি আরব দুই দেশই। সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দেশের নাগরিক বিদেশে গ্রেপ্তার হলে বন্দীর অনুরোধে আটককারী দেশকে অবিলম্বে তাঁর দেশের কনস্যুলেটকে জানাতে হয় এবং কনস্যুলার সহায়তার সুযোগ দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে বন্দীরা কনস্যুলেটকে জানানোর অনুরোধ করেছিলেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ দুই বাংলাদেশিকে আটক করে খুব দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে, এমনটা হওয়ার কথা নয়। এখন আটক দুজনের পক্ষে কেউ মিশনে যোগাযোগ করল না কেন, সেটাও রহস্যজনক। নিহত দুজনের সৌদি আরবে অবস্থানের ধরন ও মেয়াদ, বিচারে কোনো আইনি সহায়তা বা আপিলের সুযোগ নেওয়া হয়েছিল কি না, এসব বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।","description_word_count":403,"url":"https://prelive.starplaybd.com/news/1271","json_url":"https://prelive.starplaybd.com/api/news/1271.json","image":"https://prelive.starplaybd.com/media/a30e2b373e773c1f07834547859216bb097dff35fca5c52e803e7198d89d9831.jpg","image_status":"stored","categories":["bangladesh"],"published_at":"2026-10-16T14:35:13.000Z","collected_at":"2026-10-16T15:01:21Z","rewritten_at":"2026-10-16T15:01:36Z","variants":{"balanced":{"title":"মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: বাংলাদেশ আগে জানত না, তথ্য চেয়ে সৌদিকে চিঠি","body":"সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় মসজিদ এলাকায় ‘অনৈতিক’ কাজের দায়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি আগে জানত না বাংলাদেশ। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশ বিষয়টি জানতে পারে। এরপর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গতকাল বৃহস্পতিবার চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।\n\nআজ শুক্রবার বিকেলে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই বিষয়টি তাদের নজরে আসে। এরপর গতকাল জেদ্দার কনস্যুলেট থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।\n\nসৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) গত বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার তথ্য নিশ্চিত করে। জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সৌদি নিরাপত্তাবাহিনী তাঁদের গ্রেপ্তার করেছিল।\n\nপ্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে ওই দুজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে আদালতে পাঠানো হয়। শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘তাআজির’ অর্থাৎ বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তির বিধানে আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করা এবং যে পরিস্থিতিতে অপরাধ ঘটেছে, তা বিবেচনায় নিয়েই বিচারক এ শাস্তি দেন বলে জানানো হয়েছে। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখলে তা চূড়ান্ত রূপ পায় এবং রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ জারি হয়।\n\nসৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় পবিত্রতা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শরিয়াহ আইন কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে পবিত্র স্থানে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সৌদি আরব থেকে বেসরকারি সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে জেদ্দার আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া চলছিল। আর বিচারপ্রক্রিয়া চলার সময় বাংলাদেশের দুজন বিশিষ্ট নাগরিক দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছেন।\n\nপ্রসঙ্গত কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদে পক্ষভুক্ত বাংলাদেশ ও সৌদি আরব দুই দেশই। সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দেশের নাগরিক বিদেশে গ্রেপ্তার হলে বন্দীর অনুরোধে আটককারী দেশকে অবিলম্বে তাঁর দেশের কনস্যুলেটকে জানাতে হয় এবং কনস্যুলার সহায়তার সুযোগ দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে বন্দীরা কনস্যুলেটকে জানানোর অনুরোধ করেছিলেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ দুই বাংলাদেশিকে আটক করে খুব দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে, এমনটা হওয়ার কথা নয়। এখন আটক দুজনের পক্ষে কেউ মিশনে যোগাযোগ করল না কেন, সেটাও রহস্যজনক। নিহত দুজনের সৌদি আরবে অবস্থানের ধরন ও মেয়াদ, বিচারে কোনো আইনি সহায়তা বা আপিলের সুযোগ নেওয়া হয়েছিল কি না, এসব বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।"}}},{"id":1273,"external_id":"news-1273","title":"গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পেলেন হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড","description":"শান্তিতে নোবেলজয়ী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মর্যাদাপূর্ণ ‘হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। আজ শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্টন হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত, উদ্যোক্তা, শিক্ষক, গবেষকসহ প্রায় ৪০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউনূসের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে করতালি দিয়ে তাঁকে সম্মান জানান।\n\nএ বছর অধ্যাপক ইউনূসসহ মোট চারজনকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। অপর তিন বিজয়ী হলেন ভারতের ‘সেলফ-এমপ্লয়েড উইমেনস অ্যাসোসিয়েশন’ (সেবা)-এর পরিচালক রিমা নানাবতী, ফ্যাশন ডিজাইনার ও ‘টোরি বার্চ ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা টোরি বার্চ এবং জর্ডানের ‘মাইক্রোফান্ড ফর উইমেন’-এর বোর্ড চেয়ার মুনা সুখতিয়ান। মুনা সুখতিয়ানকে বিশেষ ‘জর্জটাউন অ্যাম্বাসেডরস অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউনূসের ভূয়সী প্রশংসা করে হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘আমি নিজে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম দেখেছি। নারীরা কীভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছে। এটা অভূতপূর্ব। শুধু বাংলাদেশের নারীরা নন, অধ্যাপক ইউনূস তাঁর কাজ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন।’\n\nপুরস্কার গ্রহণের পর বক্তৃতায় অধ্যাপক ইউনূস তাঁর কাজের ৫০ বছর পূর্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের কাজের ৫০ বছরের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এখানে আপনারা যে আয়োজন করেছেন, তা বাংলাদেশে একটি বড় বার্তা পৌঁছে দেবে এবং গ্রামীণ পরিবারকে অনুপ্রাণিত করবে।’ দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে গ্রামীণ ব্যাংকের ভূমিকা তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করেছি। আমরা নারীদের দিকে মনোযোগ দিয়েছি। তাঁরা যেন নিজেদের শক্তি কাজে লাগাতে, নিজের দায়িত্ব নিজেই নিতে পারেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেন।’\n\nঅধ্যাপক ইউনূস বলেন, আজ সেই পরিবারগুলো অনেক বদলে গেছে। এখন আর লাজুক, চুপ করে বসে থাকা দরিদ্র নারী দেখা যায় না; বরং দেখা যায় আত্মবিশ্বাসী নারী, যাঁরা নিজেদের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেন। এসব নারী নিজেদের ব্যাংক নিজেরাই পরিচালনা করেন, আর তাঁরাই গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক। ঋণগ্রহীতাদের সন্তানেরাও এখন চাকরি খুঁজছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা তাদের বলেছি, এ কথাটি বারবার বলো, “আমরা চাকরিপ্রার্থী নই, আমরা চাকরিদাতা।” কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে নিজের ব্যবসা গড়ে তুলতে হবে।’\n\nএ সময় সামাজিক ব্যবসার ধারণার কথা উল্লেখ করে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ইউনূস জানান, এর উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত মুনাফা নয়; বরং সমস্যার সমাধান করা। স্বাস্থ্যসেবা খাতে সামাজিক ব্যবসার তহবিল থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চক্ষু হাসপাতাল গড়ে তুলতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ আবার স্বাস্থ্যসেবাতেই বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ভুলভাবে সাজানো হয়েছে। কারণ, এটি তরুণদের চাকরিপ্রার্থী হিসেবে তৈরি করে। শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো মানুষকে সৃজনশীল ও উদ্যোগী করে গড়ে তোলা। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাব্যবস্থার কাজ হওয়া উচিত উদ্যোক্তা তৈরি করা।’\n\nএ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’ চালুর আশা প্রকাশ করেন অধ্যাপক ইউনূস। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় ‘তিন শূন্যের পৃথিবী’ গড়ার পথে নেতৃত্ব দিতে পারে। এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করবে, শুধু সার্টিফিকেটের পেছনে না ছুটে একজন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠো। ব্যবসা শুরুর জন্য অর্থায়নসহ যা যা প্রয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয় তা নিশ্চিত করবে। শিক্ষাক্ষেত্রে এটি তাদের প্রচেষ্টার একটি নতুন সূচনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।","description_word_count":499,"url":"https://prelive.starplaybd.com/news/1273","json_url":"https://prelive.starplaybd.com/api/news/1273.json","image":"https://prelive.starplaybd.com/media/9fe159684a015b2b96b7e4ce7fc3ae0f9dd83943a8ca4a8d98141c45a7fcf57c.jpg","image_status":"stored","categories":["bangladesh"],"published_at":"2026-10-16T14:01:22.000Z","collected_at":"2026-10-16T15:01:53Z","rewritten_at":"2026-10-16T15:02:02Z","variants":{"balanced":{"title":"গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পেলেন হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড","body":"শান্তিতে নোবেলজয়ী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মর্যাদাপূর্ণ ‘হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। আজ শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্টন হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত, উদ্যোক্তা, শিক্ষক, গবেষকসহ প্রায় ৪০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউনূসের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে করতালি দিয়ে তাঁকে সম্মান জানান।\n\nএ বছর অধ্যাপক ইউনূসসহ মোট চারজনকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। অপর তিন বিজয়ী হলেন ভারতের ‘সেলফ-এমপ্লয়েড উইমেনস অ্যাসোসিয়েশন’ (সেবা)-এর পরিচালক রিমা নানাবতী, ফ্যাশন ডিজাইনার ও ‘টোরি বার্চ ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা টোরি বার্চ এবং জর্ডানের ‘মাইক্রোফান্ড ফর উইমেন’-এর বোর্ড চেয়ার মুনা সুখতিয়ান। মুনা সুখতিয়ানকে বিশেষ ‘জর্জটাউন অ্যাম্বাসেডরস অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউনূসের ভূয়সী প্রশংসা করে হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘আমি নিজে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম দেখেছি। নারীরা কীভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছে। এটা অভূতপূর্ব। শুধু বাংলাদেশের নারীরা নন, অধ্যাপক ইউনূস তাঁর কাজ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন।’\n\nপুরস্কার গ্রহণের পর বক্তৃতায় অধ্যাপক ইউনূস তাঁর কাজের ৫০ বছর পূর্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের কাজের ৫০ বছরের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এখানে আপনারা যে আয়োজন করেছেন, তা বাংলাদেশে একটি বড় বার্তা পৌঁছে দেবে এবং গ্রামীণ পরিবারকে অনুপ্রাণিত করবে।’ দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে গ্রামীণ ব্যাংকের ভূমিকা তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করেছি। আমরা নারীদের দিকে মনোযোগ দিয়েছি। তাঁরা যেন নিজেদের শক্তি কাজে লাগাতে, নিজের দায়িত্ব নিজেই নিতে পারেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেন।’\n\nঅধ্যাপক ইউনূস বলেন, আজ সেই পরিবারগুলো অনেক বদলে গেছে। এখন আর লাজুক, চুপ করে বসে থাকা দরিদ্র নারী দেখা যায় না; বরং দেখা যায় আত্মবিশ্বাসী নারী, যাঁরা নিজেদের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেন। এসব নারী নিজেদের ব্যাংক নিজেরাই পরিচালনা করেন, আর তাঁরাই গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক। ঋণগ্রহীতাদের সন্তানেরাও এখন চাকরি খুঁজছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা তাদের বলেছি, এ কথাটি বারবার বলো, “আমরা চাকরিপ্রার্থী নই, আমরা চাকরিদাতা।” কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে নিজের ব্যবসা গড়ে তুলতে হবে।’\n\nএ সময় সামাজিক ব্যবসার ধারণার কথা উল্লেখ করে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ইউনূস জানান, এর উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত মুনাফা নয়; বরং সমস্যার সমাধান করা। স্বাস্থ্যসেবা খাতে সামাজিক ব্যবসার তহবিল থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চক্ষু হাসপাতাল গড়ে তুলতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ আবার স্বাস্থ্যসেবাতেই বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ভুলভাবে সাজানো হয়েছে। কারণ, এটি তরুণদের চাকরিপ্রার্থী হিসেবে তৈরি করে। শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো মানুষকে সৃজনশীল ও উদ্যোগী করে গড়ে তোলা। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাব্যবস্থার কাজ হওয়া উচিত উদ্যোক্তা তৈরি করা।’\n\nএ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’ চালুর আশা প্রকাশ করেন অধ্যাপক ইউনূস। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় ‘তিন শূন্যের পৃথিবী’ গড়ার পথে নেতৃত্ব দিতে পারে। এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করবে, শুধু সার্টিফিকেটের পেছনে না ছুটে একজন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠো। ব্যবসা শুরুর জন্য অর্থায়নসহ যা যা প্রয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয় তা নিশ্চিত করবে। শিক্ষাক্ষেত্রে এটি তাদের প্রচেষ্টার একটি নতুন সূচনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।"}}},{"id":1266,"external_id":"news-1266","title":"রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক নিহত, আহত দুই","description":"রাজশাহী নগরের তালাইমারী মোড় এলাকায় শুক্রবার বেলা দুইটার দিকে একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় মো. শাহজাহান (৫০) নামের এক রিকশাচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক পথচারী নারী ও তাঁর ১০ বছর বয়সী মেয়ে আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্রুতগতিতে চলা ওই কারটি প্রথমে এক নারী পথচারীকে ধাক্কা দেয়, পরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরও দুজন রিকশাচালককে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শাহজাহানের মৃত্যু হয়। আহত দুজনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।\n\nনিহত শাহজাহান রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চব্বিশনগর গ্রামের বাসিন্দা। আহতরা হলেন নগরের বোয়ালিয়া থানার রানীনগর পানির ট্যাংকি এলাকার বাসিন্দা মিতা বেগম (৪০) ও তাঁর মেয়ে সুবাইদা জান্নাত। তাঁরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শামীম আহমেদ জানান, দুর্ঘটনায় আহত তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে শাহজাহান নামের একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। অন্য দুজনের চিকিৎসা চলছে।\n\nঘটনার পর স্থানীয় লোকজন গাড়িসহ অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে আটক করলে পুলিশ গিয়ে তাঁকে থানায় নিয়ে আসে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হতে থাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গাড়িসহ বোয়ালিয়া থানায় নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।\n\nঅভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম এস এম রিজন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বেঙ্গল সিগনেচার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে দ্রুতগতিতে প্রাইভেট কার চালাচ্ছিলেন রিজন। এ সময় এক নারী পথচারীকে ধাক্কা দিলে তিনি সড়কের এক পাশে ছিটকে পড়েন। পরে রিজন প্রাইভেট কারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরও দুজন রিকশাচালককে চাপা দেন। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন গাড়িসহ রিজনকে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।\n\nজানতে চাইলে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুমা মুস্তারি বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। নিহত ব্যক্তির পরিবার বাদী হয়ে মামলাটি করবে। এরপর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে এস এম রিজনের বিরুদ্ধে আগেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গাড়ি দিয়ে এক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলেন। তখন ক্যাম্পাসে আর বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাবেন না—এমন মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।\n\nএ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শাহজাহানের পরিবার বিচার দাবি করেছে। পুলিশ বলছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আহত মিতা বেগম ও সুবাইদা জান্নাতের অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর তালাইমারী মোড় এলাকায় কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।","description_word_count":387,"url":"https://prelive.starplaybd.com/news/1266","json_url":"https://prelive.starplaybd.com/api/news/1266.json","image":"https://prelive.starplaybd.com/media/19758ec0d18026b540d42762389c392e1e98b03d485b9956ad925337946c2b2a.jpg","image_status":"stored","categories":["bangladesh"],"published_at":"2026-10-16T13:58:20.000Z","collected_at":"2026-10-16T14:01:10Z","rewritten_at":"2026-10-16T14:01:20Z","variants":{"balanced":{"title":"রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক নিহত, আহত দুই","body":"রাজশাহী নগরের তালাইমারী মোড় এলাকায় শুক্রবার বেলা দুইটার দিকে একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় মো. শাহজাহান (৫০) নামের এক রিকশাচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক পথচারী নারী ও তাঁর ১০ বছর বয়সী মেয়ে আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্রুতগতিতে চলা ওই কারটি প্রথমে এক নারী পথচারীকে ধাক্কা দেয়, পরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরও দুজন রিকশাচালককে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শাহজাহানের মৃত্যু হয়। আহত দুজনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।\n\nনিহত শাহজাহান রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চব্বিশনগর গ্রামের বাসিন্দা। আহতরা হলেন নগরের বোয়ালিয়া থানার রানীনগর পানির ট্যাংকি এলাকার বাসিন্দা মিতা বেগম (৪০) ও তাঁর মেয়ে সুবাইদা জান্নাত। তাঁরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শামীম আহমেদ জানান, দুর্ঘটনায় আহত তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে শাহজাহান নামের একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। অন্য দুজনের চিকিৎসা চলছে।\n\nঘটনার পর স্থানীয় লোকজন গাড়িসহ অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে আটক করলে পুলিশ গিয়ে তাঁকে থানায় নিয়ে আসে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হতে থাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গাড়িসহ বোয়ালিয়া থানায় নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।\n\nঅভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম এস এম রিজন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বেঙ্গল সিগনেচার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে দ্রুতগতিতে প্রাইভেট কার চালাচ্ছিলেন রিজন। এ সময় এক নারী পথচারীকে ধাক্কা দিলে তিনি সড়কের এক পাশে ছিটকে পড়েন। পরে রিজন প্রাইভেট কারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরও দুজন রিকশাচালককে চাপা দেন। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন গাড়িসহ রিজনকে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।\n\nজানতে চাইলে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুমা মুস্তারি বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। নিহত ব্যক্তির পরিবার বাদী হয়ে মামলাটি করবে। এরপর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে এস এম রিজনের বিরুদ্ধে আগেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গাড়ি দিয়ে এক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলেন। তখন ক্যাম্পাসে আর বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাবেন না—এমন মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।\n\nএ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শাহজাহানের পরিবার বিচার দাবি করেছে। পুলিশ বলছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আহত মিতা বেগম ও সুবাইদা জান্নাতের অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর তালাইমারী মোড় এলাকায় কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।"}}},{"id":1265,"external_id":"news-1265","title":"গাজীপুরে কুড়িয়ে পাওয়া সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবকের হাতের আঙুল বিচ্ছিন্ন","description":"গাজীপুরের শ্রীপুরে কুড়িয়ে পাওয়া একটি সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণে নুর মোহাম্মদ (৩০) নামের এক যুবকের বাঁহাতের দুটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং বাকি তিনটি আঙুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজাবাড়ি ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর-কাপাসিয়া সড়কের পাশে সাটিয়াবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত নুর মোহাম্মদ ওই এলাকার আবদুল খালেকের ছেলে এবং পেশায় কাঠমিস্ত্রি। তাঁকে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।\n\nস্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নুর মোহাম্মদ সড়কের পাশে একটি নির্জন জায়গায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি কিছুটা কৌটার মতো দেখতে একটি বস্তু কৌতূহলবশত হাতে নেন। পরে সেটি নিয়ে পাশের মো. সিদ্দিক নামের এক ব্যক্তির মনোহারি দোকানের সামনের বেঞ্চে বসেন। সেখানে তিনি বস্তুটি মো. শফিকুল ইসলামসহ আরও তিনজনকে দেখান। একপর্যায়ে তিনি বস্তুটির এক প্রান্তে থাকা ধাতব আংটা খুলে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে চারপাশ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এবং তাঁর বাঁহাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।\n\nপ্রত্যক্ষদর্শী শফিকুল ইসলাম বলেন, বস্তুটি কুড়িয়ে পাওয়ার পর নুর মোহাম্মদ সেটি হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখছিলেন। খুলতে চাইলে তিনি তাঁকে বাধা দেন। কিন্তু নুর বাধা না শুনে সেটি খুলতে শুরু করলে শফিকুল সেখান থেকে চলে যেতে থাকেন। তবে মুহূর্তের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।\n\nখবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরা। এসআরবি-১-এর গাজীপুর পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার দেবজীত পাল বলেন, ‘বিস্ফোরণ হওয়া বস্তুটি পরিত্যক্ত সাউন্ড গ্রেনেড বলে প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলমান।’\n\nরাজাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মোসা. মনিরা পারভীন বলেন, তিনি খবর পেয়ে এসে দেখেন, দোকানের সামনে রক্ত পড়ে আছে। অনেক মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন। বিস্ফোরক বস্তুটি সেখানে কীভাবে এল, তা এলাকার কেউ ধারণা করতে পারছেন না। স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও কৌতূহল বিরাজ করছে।\n\nশ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। আহত নুর মোহাম্মদের চিকিৎসা চলছে এবং তাঁর অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। পুলিশ ও এসআরবি সদস্যরা ঘটনার তদন্ত করছেন এবং বস্তুটি কীভাবে ওই এলাকায় এল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।","description_word_count":337,"url":"https://prelive.starplaybd.com/news/1265","json_url":"https://prelive.starplaybd.com/api/news/1265.json","image":"https://prelive.starplaybd.com/media/834c6b81fc3f4fdc78bdda9cf6b8f39c38375f92a61b136b5d3464efadb9d6af.jpg","image_status":"stored","categories":["bangladesh"],"published_at":"2026-10-16T13:50:55.000Z","collected_at":"2026-10-16T14:00:58Z","rewritten_at":"2026-10-16T14:01:07Z","variants":{"balanced":{"title":"গাজীপুরে কুড়িয়ে পাওয়া সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবকের হাতের আঙুল বিচ্ছিন্ন","body":"গাজীপুরের শ্রীপুরে কুড়িয়ে পাওয়া একটি সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণে নুর মোহাম্মদ (৩০) নামের এক যুবকের বাঁহাতের দুটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং বাকি তিনটি আঙুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজাবাড়ি ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর-কাপাসিয়া সড়কের পাশে সাটিয়াবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত নুর মোহাম্মদ ওই এলাকার আবদুল খালেকের ছেলে এবং পেশায় কাঠমিস্ত্রি। তাঁকে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।\n\nস্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নুর মোহাম্মদ সড়কের পাশে একটি নির্জন জায়গায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি কিছুটা কৌটার মতো দেখতে একটি বস্তু কৌতূহলবশত হাতে নেন। পরে সেটি নিয়ে পাশের মো. সিদ্দিক নামের এক ব্যক্তির মনোহারি দোকানের সামনের বেঞ্চে বসেন। সেখানে তিনি বস্তুটি মো. শফিকুল ইসলামসহ আরও তিনজনকে দেখান। একপর্যায়ে তিনি বস্তুটির এক প্রান্তে থাকা ধাতব আংটা খুলে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে চারপাশ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এবং তাঁর বাঁহাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।\n\nপ্রত্যক্ষদর্শী শফিকুল ইসলাম বলেন, বস্তুটি কুড়িয়ে পাওয়ার পর নুর মোহাম্মদ সেটি হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখছিলেন। খুলতে চাইলে তিনি তাঁকে বাধা দেন। কিন্তু নুর বাধা না শুনে সেটি খুলতে শুরু করলে শফিকুল সেখান থেকে চলে যেতে থাকেন। তবে মুহূর্তের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।\n\nখবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরা। এসআরবি-১-এর গাজীপুর পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার দেবজীত পাল বলেন, ‘বিস্ফোরণ হওয়া বস্তুটি পরিত্যক্ত সাউন্ড গ্রেনেড বলে প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলমান।’\n\nরাজাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মোসা. মনিরা পারভীন বলেন, তিনি খবর পেয়ে এসে দেখেন, দোকানের সামনে রক্ত পড়ে আছে। অনেক মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন। বিস্ফোরক বস্তুটি সেখানে কীভাবে এল, তা এলাকার কেউ ধারণা করতে পারছেন না। স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও কৌতূহল বিরাজ করছে।\n\nশ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। আহত নুর মোহাম্মদের চিকিৎসা চলছে এবং তাঁর অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। পুলিশ ও এসআরবি সদস্যরা ঘটনার তদন্ত করছেন এবং বস্তুটি কীভাবে ওই এলাকায় এল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"}}}]}