মাধ্যমিক শিক্ষকদের দক্ষতা মূল্যায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর মাঠে নামছে

মাধ্যমিক শিক্ষকদের বর্তমান দক্ষতার অবস্থা যাচাই এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী শিক্ষকদের ওপর সেই প্রশিক্ষণের প্রাথমিক প্রভাব মূল্যায়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইআর)। এ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্বিক সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে বলে জানানো হয়েছে।
মাউশির লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক চিঠিতে অধিদপ্তর জানায়, বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো, মাধ্যমিক শিক্ষকদের দক্ষতা প্রাথমিক অবস্থার তুলনায় ১৫ শতাংশ বাড়ানো।
এই লক্ষ্য অর্জনে প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক শিক্ষকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। এসব উদ্যোগের অংশ হিসেবে শিক্ষকদের বর্তমান দক্ষতার স্তর নির্ধারণে একটি বেসলাইন সমীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ নেওয়া শিক্ষকদের ওপর এর প্রাথমিক প্রভাবও মূল্যায়ন করা হবে। এই মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন আইইআরের প্রতিনিধিরা।
মাউশির চিঠি অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধিরা অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের দক্ষতা নির্ধারণ এবং প্রশিক্ষণের প্রাথমিক ফলাফল মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া হবে। তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের তথ্য সংগ্রহে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া, মাউশির আঞ্চলিক পরিচালক ও উপপরিচালকদের আইইআরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সমন্বয়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এই বেসলাইন সমীক্ষা ও প্রভাব মূল্যায়নের ফলাফল ভবিষ্যতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আইইআরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে হবে।