ইতালি প্রবাসীকে নারী সেজে ফোনে বিয়ে, ছয় মাস পর ধরা পড়ল প্রতারণা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইমোতে ‘সুমাইয়া আক্তার’ নামে পরিচয় দিয়ে মেয়েলি কণ্ঠে কথা বলে এক ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন মো. শান্ত আলী (২০)। পরে সেই সম্পর্ক গড়ায় মোবাইল ফোনে বিয়েতে। বিয়ের ছয় মাস পর ওই প্রবাসী জানতে পারেন, ‘সুমাইয়া আক্তার’ নামে যার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে, তিনি আসলে কোনো নারী নন। শান্ত আলী নামের এক তরুণ মেয়ের কণ্ঠ নকল করে তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।
এ ঘটনায় শান্ত আলী ও তার বাবা মো. শহিদুল ইসলামকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে লালপুর থানা পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে ওই ইতালি প্রবাসীর কাছ থেকে ছয় মাসে তিন লাখের বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার গন্ডবিল গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, লালপুরের বিলমাড়িয়া ও দুড়দুড়িয়া এলাকায় ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো আইডি ব্যবহার করে একটি প্রতারক চক্র প্রবাসীদের টার্গেট করে প্রতারণা করছে। চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন সময় কণ্ঠ নকল করে নারী সেজে প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। শান্ত আলী ও তার বাবা শহিদুল ইসলাম ওই চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, শান্ত আলী মেয়েলি কণ্ঠে কথা বলে ‘সুমাইয়া আক্তার’ পরিচয়ে ওই ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে তাদের বিয়ে হয়। পরে শহিদুল ইসলাম নিজেকে ওই কথিত স্ত্রীর বাবা পরিচয় দিয়ে প্রবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এভাবে ছয় মাসে প্রবাসীর কাছ থেকে তিন লাখের বেশি টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
প্রবাসীদের সঙ্গে অনলাইনে প্রতারণার এ ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এমন প্রতারণায় জড়িত। গ্রেপ্তারের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে বলে জানানো হয়েছে।