হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৭ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১১৬২

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৬২ জনে। আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সিলেটে তিনজন এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রংপুরে একজন করে রয়েছেন। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ২ লাখ ৫ হাজার ২৮ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ১৮০ জনের। একই সময়ে পরীক্ষায় আরও ৯৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২২ হাজার ৪২১ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১০৪ জন। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৬২ জনে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে, ৪৭৭ জনের। এ ছাড়া সিলেটে ১৮৭, চট্টগ্রামে ৯৪, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮১, বরিশালে ৬২, খুলনায় ৪৭ ও রংপুরে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৩০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজনের মৃত্যু ও ২ হাজার ১৯৩ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৯ হাজার ২৭৫ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৭ হাজার ৮২ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৯১ হাজার ৭ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫ হাজার ৭৭৪ জন চিকিৎসাধীন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে, হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে, ৪৭৬ জনের। এ ছাড়া সিলেটে ১৮৪, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে ৯৩ জন করে, ময়মনসিংহে ৮১, বরিশালে ৬২, খুলনায় ৪৬ ও রংপুরে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। উল্লেখ্য, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ও বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে, যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়েছে।
জলাতঙ্ক বা র্যাবিস মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী রোগ। এটি শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য হলেও একবার লক্ষণ প্রকাশ পেলে মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো ভ্যাকসিন গ্রহণ এবং র্যাবিসে আক্রান্ত প্রাণী কামড়ানোর পর সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিবছর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে হাম, ডেঙ্গু ও জলাতঙ্ক নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।