ডেঙ্গু পরিস্থিতি: এক দিনে আরও চার মৃত্যু, মোট মৃতের সংখ্যা ২৯৯

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৯ জনে। শনিবার প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এদিকে একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৬৩১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তিরা বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনা এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সংস্থার তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে ১ জন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অক্টোবরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৫৪ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৯৯ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৬৩১ জনের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ৯২ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ৪০৬ জন ভর্তি হয়েছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২০৫ জন। ঢাকার বাইরে বিভাগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৩৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে।
এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ২১৯ জন, খুলনায় ১৮৪ জন, রাজশাহীতে ১৪১ জন, রংপুরে ৭৫ জন, ময়মনসিংহে ৬১ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৭ হাজার ৮২ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৯১ হাজার ৭ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫ হাজার ৭৭৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনের শেষ অংশে হামের উপসর্গ, জলাতঙ্ক, বার্ধক্যে মস্তিষ্কের পরিবর্তন এবং বিশ্ব দৃষ্টি দিবস সম্পর্কিত কিছু তথ্য ছিল, যা ডেঙ্গু পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে, ৪৭৬ জনের। এ ছাড়া সিলেটে ১৮৪ জন, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে ৯৩ জন করে, ময়মনসিংহে ৮১ জন, বরিশালে ৬২ জন, খুলনায় ৪৬ জন ও রংপুরে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জলাতঙ্ক বা র্যাবিস মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী রোগ। এটি শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য হলেও একবার লক্ষণ প্রকাশ পেলে মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো ভ্যাকসিন গ্রহণ এবং র্যাবিসে আক্রান্ত প্রাণী কামড়ানোর পর সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিবছর কর্মসূচি পালিত হয়। অন্যদিকে, বয়স পঞ্চাশের কোঠায় পৌঁছালে ত্বকে বলিরেখা পড়া বা চুলে পাক ধরার মতো বাহ্যিক পরিবর্তন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এই সময় মস্তিষ্কের ভেতরেও শুরু হয় এক নীরব পরিবর্তন। এত দিন ধারণা করা হতো, জন্মের পর মস্তিষ্কের প্রতিরক্ষামূলক মূল ইমিউন বা রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলো সীমিতভাবে কাজ করে।
চোখ দিয়ে আমরা পৃথিবীর সৌন্দর্য, প্রিয়জনের মুখ এবং জীবনের অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত দেখি। অথচ দৈনন্দিন ব্যস্ততায় চোখের যত্ন অনেক সময় অবহেলিত হয়। গতকাল ছিল বিশ্ব দৃষ্টি দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘আপনার চোখকে ভালোবাসুন’। চোখের জন্য যা করতে পারেন—এ বিষয়ে সচেতনতা প্রয়োজন। তবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই হালনাগাদ তথ্য জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।