বাংলাদেশ • শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬সত্যের পথে, প্রতিদিন
এ আই নিউজ

দেশের খবর, বিশ্বের খবর
আপনার প্রতিদিনের সংবাদ

রাজনীতি

হিন্দুদের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার দরকার নেই, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হিন্দুদের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার দরকার নেই, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এ আই নিউজ

রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার প্রয়োজন নেই। শুক্রবার বিকেলে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যে সময়ে তাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে, সেই সময়কে বিবেচনায় নিয়ে তাদেরই সমর্থন জানানো উচিত। তিনি আরও বলেন, আপনারা আপনাদের বিবেকের কাছেই দায়ী থাকবেন। যে সময় সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা ভোগ করবেন, সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাবেন, সর্বোচ্চসংখ্যক ছুটির দিন পাবেন এবং সর্বোচ্চ আনন্দ ভোগ করবেন, সেখানে আপনাদের সর্বোচ্চ সমর্থনও থাকবে বলে আমরা আশা করতে পারি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এবার সংখ্যার দিক থেকে সর্বোচ্চ পূজামণ্ডপ, সর্বোচ্চ বরাদ্দ, সর্বোচ্চ ছুটি এবং সর্বোচ্চ আনন্দ উৎসব হয়েছে। ভোটও হয়েছে সর্বোচ্চ, তবে আবারও হবে। শেষের কথাটি রাজনৈতিক, আপনারা সবাই বুঝে গেছেন। অতীতে অনেকে হিন্দুদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আপনারা নিজেরাই বিচার করবেন কোন সময়ে, কোন গণতান্ত্রিক সময়ে তাদের সকল গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে। বিচার আপনাদের।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিজস্ব বিশ্বাস, রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠান রয়েছে, যা তাদের হৃদয়ের খুব কাছের। তাই প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীর উচিত অন্য ধর্মের মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। সরকার এই নীতিতে বিশ্বাস করে। তিনি বলেন, আগামী বছরগুলোতেও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ শারদীয় দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় উৎসব যেন স্বাধীনভাবে, সুন্দরভাবে ও মহা আনন্দে উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য সরকার সব সময় সহযোগিতা করবে।

বনানী পূজামণ্ডপের আয়োজনের প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আয়োজকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি জানতে পেরেছেন অনেকে এই মণ্ডপকে দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ পূজামণ্ডপ বলে থাকেন। দেশীয় সংস্কৃতি, উপাদান, আবহ ও নকশায় যেভাবে এটি সাজানো হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি আয়োজকসহ সবার মঙ্গল, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, আজকে পুরো দেশে উদযাপন হচ্ছে। এই উদযাপনে আমাদের দুর্গা মা মনে করিয়ে দেয় যে সবচেয়ে কঠিন অন্ধকার রাতের পরে আলোর জয় হয়। এই জয় অনেক দিন ধরে আঁধার রাজনৈতিক সময় কাটিয়ে আমরা সবাই বাংলাদেশি হিসেবে জয়ী হয়েছি, দেশকে উদ্ধার করেছি। বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির বলেন, দুর্গাপূজার মূল বিষয় মা দুর্গা ১০টি হাত দিয়ে অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য দূর করেন। বাংলাদেশ পুলিশও এই একই কাজ করে। আমরা চাই দেশে শান্তি।

অনুষ্ঠানে নেপাল, ভ্যাটিকান, সুইডেন, নরওয়ে, ক্যামেরুনসহ ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরাও দুর্গাপূজা উদযাপনে নিজেদের অনুভূতি তুলে ধরেন। কেউ কেউ বাংলায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বনানী ও গুলশান সোসাইটির সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য ও উপস্থিতির মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার সুরক্ষার বার্তা আরও জোরালো হলো।

প্রচ্ছদে ফিরুন ←