বাংলাদেশ • শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬সত্যের পথে, প্রতিদিন
এ আই নিউজ

দেশের খবর, বিশ্বের খবর
আপনার প্রতিদিনের সংবাদ

বিশ্ব

নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা, আগেও হামলার শিকার

নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা, আগেও হামলার শিকার
এ আই নিউজ

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে। পুলিশ জানায়, দুই ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি 'ডিটেকটিভ আর্টিকেল' নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন এবং বেসরকারি একটি আইপিটিভি চ্যানেলে নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগেও তার ওপর হামলা হয়েছিল এবং তিনি নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, তিনি নিজেও একাধিকবার ওই ব্যক্তিকে সতর্ক করেছিলেন। তবে কী কারণে এবং কারা তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পুলিশ। এর আগে কারা তাকে হুমকি দিয়েছে বা হামলা করেছে, সে ব্যাপারেও সুনির্দিষ্ট করে পরিবার বা পুলিশ কিছু বলছে না। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সুনই গ্রামে। তবে তিনি দুর্গাপুরে তেলনজিয়া গ্রামে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে বসবাস করতেন। সেখানে তার দুই সন্তান রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে কয়েক গজ দূরে একটি চায়ের দোকানে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর রাত সোয়া ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, ওই দোকানে চা পান করার পর ছয়টি সিগারেট কিনেছিলেন লুৎফুজ্জামান আলিফ। তখন আরও দুই অপরিচিত ব্যক্তি ওখান থেকে সিগারেট কেনেন। পরে তিনি মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে গ্রামীণ পথ ধরে শ্বশুরবাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করলে ওই দুই ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে এবং একপর্যায়ে গুলি চালায়।

পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির মাথা, গলা ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত পাঁচটি গুলি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে যান প্রথম আলোর স্থানীয় সাংবাদিক পল্লব চক্রবর্তী। তিনি দোকানদার রবিন রাংছার বরাত দিয়ে বলেন, ফকির ওখানেই বসে ছিলেন। গতকাল দোকান থেকে বের হয়ে ১০ ফুটের মতো হেঁটে গেলে তখনই গুলি করা হয়। দোকানদার পরপর কয়েকটি গুলির শব্দ শুনে ভয় পেয়ে দোকানের ভেতরে আশ্রয় নেন। ঘটনাস্থলটি দুর্গাপুর থানা থেকে সর্বোচ্চ এক কিলোমিটার দূরে বলে জানান তিনি।

লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের কারও সঙ্গে শত্রুতা ছিল কি না জানতে তার স্ত্রী আনন্দিতা সংমাকে কল করা হলে কলটি ধরেন মিজ আনন্দিতার মা শিলা সংমা। তিনি গুলির খবর শোনার মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে বলেন, বাসার সামনেই দোকান। তখন একজন লোক এসে বললো, তোমার জামাইর এই অবস্থা। গিয়ে দেখি, একা লাশ পড়ে আছে, আর কোনো মানুষ নাই। ছয়টা গুলি করছে, মাথায়, গলায়, পেটে। এর বিচার যেন আমি পাই। এই দুইটা বাচ্চা নিয়া আমি এখন কী করবো। তিনি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে বলেন, মোবাইলটা চেক করলে বোঝা যাবে যে ও কার সঙ্গে কথা বলছিল, কার সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হইছিল। ওর মোবাইল তো এখন পুলিশের হাতে।

দুর্গাপুর থানার ওসি জানিয়েছেন, গত বছরের নভেম্বরেও লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। দৈনিক প্রথম আলোর খবরে ওই সময় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের সূত্র দিয়ে লেখা হয়েছিল, ১০ই নভেম্বর বেলা একটার দিকে লুৎফুজ্জামান ও তার সহকর্মী শাহজাহান শেখ দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদী পার হতে একটি ভাড়া মোটরসাইকেলে করে নদীর তেরিবাজার ঘাটে নেমেছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন ব্যক্তি সেখানে আসেন। তাদের মধ্যে দু'জন চাপাতি হাতে নিয়ে লুৎফুজ্জামানকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে তার দুই হাত, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। ওই ঘটনার বিষয়ে ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, চেহারার মিল থাকার কারণে লুৎফুজ্জামানকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে গিয়ে পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল বলে তারা ধারণা করেন। দেড়-দুই বছর আগে ওই ঘটনা ঘটে জানিয়ে তিনি বলেন, ওইসময় উনাকে মনে করে একজন সাব-ইন্সপেক্টরকে কুপায়ে মাইরা ফেলে, তার চেহারার সাথে সিমিলার ছিল বলে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে আমরা ধারণা করি এ কারণেই মারছে। উনি নিজেও এটা সবাইকে বলতো। ওসি জানান, সেই ঘটনার অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ হত্যা প্রসঙ্গে পল্লব চক্রবর্তীও বলেন, ফকিরের মাথায় চুল ছিল না, নিহত ওই পুলিশের মাথায়ও চুল ছিল না; চেহারাও তার মতো ছিল। এটা সবসময়ই ফকির সাংবাদিকদের বলতো। তবে আগের হামলার সঙ্গে এবারের হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

প্রচ্ছদে ফিরুন ←