পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর সিন্ডিকেট: ফিলিপিন্সে ছয় কোম্পানিকে ১.৭৬ বিলিয়ন পেসো জরিমানা

ফিলিপিন্সের প্রতিযোগিতা কমিশন (পিসিসি) বুধবার জানিয়েছে, পেঁয়াজের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর সঙ্গে জড়িত ছয়টি কোম্পানিকে মোট ১.৭৬ বিলিয়ন পেসো (প্রায় দুই কোটি ৯০ লাখ ডলার) জরিমানা করা হয়েছে। কমিশন গঠনের ২০১৬ সালের পর থেকে এটিই সর্ববৃহৎ জরিমানা। কোম্পানিগুলো পেঁয়াজ আমদানি, সংরক্ষণ ও পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং একটি অবৈধ বাজার বণ্টন প্রকল্পে অংশ নিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২২ সালে ফিলিপিন্সে পেঁয়াজের দাম রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে প্রতি কেজি ৮০০ পেসোতে পৌঁছায়, যা দেশটির দৈনিক ন্যূনতম মজুরি এবং মাংসের দামকেও ছাড়িয়ে যায়। এই সংকট তৎকালীন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যিনি খাদ্যমূল্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ২০২২ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৩ সালের শুরু পর্যন্ত কয়েক মাস রেস্তোরাঁর মেনু থেকে পেঁয়াজ উধাও হয়ে যায় এবং তা চোরাচালানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
পেঁয়াজ এমনকি এক ধরনের মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছিল, অন্তত একবার বিয়ের তোড়া হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেয় এবং মার্কোস ঘাটতির পেছনে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেছিলেন, "তাদের কৃতকর্মের কারণে ফিলিপিনোরা অনাহার ও দারিদ্র্যে মারা যাচ্ছে।" ২০২৩ সালের শেষের দিকে স্থানীয় বাম্পার ফলন বাজারে আসায় এবং দাম স্থিতিশীল হওয়ায় সংকটের অবসান ঘটে।
মূল্য সংকট তদন্তের জন্য গঠিত একটি সংসদীয় কমিটি বলেছে, পেঁয়াজের দামের 'কৃত্রিম' বৃদ্ধির পেছনে একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। পিসিসি জানায়, কোম্পানিগুলোতে চালানো অভিযানে উদ্ধার হওয়া প্রমাণে দেখা গেছে যে, ২০২০ এবং ২০২১ সালে পেঁয়াজের অনুমোদিত মোট আমদানি ছাড়পত্রের প্রায় ৫০ শতাংশ সম্মিলিতভাবে এই ছয়টি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
কমিশন আরও জানায়, কোম্পানিগুলো আমদানি, কোল্ড স্টোরেজ এবং পাইকারি বিতরণে একটি অবৈধ বাজার বণ্টন প্রকল্পে জড়িত ছিল। পিসিসি বলেছে, এই বিপুল পরিমাণ জরিমানা "অর্থনীতির সকল খাতে সিন্ডিকেটগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং ভোক্তাদের প্রতিযোগিতাবিরোধী আচরণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করার অঙ্গীকার" প্রদর্শন করে।
কমিশন আরও বলেছে যে, অপরাধীদের বিচার বিভাগ কর্তৃক ফৌজদারিভাবেও বিচার করা যেতে পারে। উল্লেখ্য, পেঁয়াজ ফিলিপিন্সের রান্নাঘরের একটি অপরিহার্য উপাদান, এবং এর দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলেছিল। এই জরিমানা ভোক্তা সুরক্ষা ও বাজার প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।