ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় সব ধরনের নিয়োগ বন্ধের নির্দেশ

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাগুলোতে সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ১৫ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ও অধীন পরিচালিত সব ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলোর গভর্নিং বডি বা অ্যাডহক কমিটির সভাপতি এবং অধ্যক্ষদের কাছে নির্দেশনাটি পাঠানো হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা ওই নির্দেশনায় নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। নির্দেশনায় শুধু বলা হয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপের ফলে অধিভুক্ত মাদ্রাসাগুলোতে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত থাকবে।
জানা গেছে, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যরা নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখার পক্ষে মত দেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশনাটি জারি করে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এই নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মাদ্রাসাগুলোর গভর্নিং বডি বা অ্যাডহক কমিটির সভাপতি এবং অধ্যক্ষদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় ফাজিল ও কামিল ডিগ্রি প্রদান করে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেশের অনেক মাদ্রাসা পরিচালিত হয়। এসব মাদ্রাসায় শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। হঠাৎ করে নিয়োগ বন্ধের নির্দেশ আসায় সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলোতে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা স্পষ্ট করেনি।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এর মানে হলো, নতুন করে কোনো শিক্ষক, কর্মচারী বা অন্য কোনো পদে নিয়োগ করা যাবে না। ইতিমধ্যে যেসব নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান আছে সেগুলোও বন্ধ রাখতে হবে। এই নির্দেশনা পালন না করলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা নির্দেশনায় বলা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে শিক্ষক সংকট থাকলে তা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত পরবর্তী নির্দেশনা দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করা হলে ভালো হয়। অন্যথায় মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।
এদিকে, নির্দেশনাটি পাওয়ার পর মাদ্রাসাগুলোর কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানা যায়নি। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা মেনে নিয়োগ বন্ধ রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কেউ কেউ বলছেন, হঠাৎ নিয়োগ বন্ধের কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। পরবর্তী নির্দেশনা কখন আসবে তা নিয়েও কোনো স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়নি।
সার্বিকভাবে, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই সিদ্ধান্ত কতদিন থাকবে এবং কেন নেওয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাই এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন।