দিল্লিতে সিজেপির তেরঙ্গা কর্মসূচি ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, পুলিশের অনুমতি প্রসঙ্গে বিতর্ক

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শুক্রবার বিকেল ৫টায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ডাকে 'লেহরা দো তিরঙ্গা' বা জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। এর আগে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ও পুলিশের দেওয়া শর্ত ভাঙার অভিযোগে সিজেপির সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তারা তিহার জেলে বন্দী। সেই গ্রেফতারের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি।
কর্মসূচিতে নাগরিক সমাজ ও বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আম আদমি পার্টিসহ একাধিক দল সমর্থন জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার দিল্লির প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে অভিজিৎ দীপকে, আইসা নেত্রী নেহা বোরা-সহ অন্যান্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এবং এসআইআর-সংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব হন। তারা দিল্লিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে পুলিশের পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেন এবং সবাইকে শুক্রবারের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
নিরাপত্তার স্বার্থে কনট প্লেস ও সংলগ্ন এলাকায় বিপুল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নিউ দিল্লি মিনিউসিপাল কাউন্সিল (এনডিএমসি) ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের ডিসিপি নেহা যাদব বলেছেন, কনট প্লেস ও আশপাশের এলাকায় বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে এবং কেউ যেন আইন না ভাঙে। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু বিক্ষোভকারীকে অন্য উপযুক্ত স্থানে তেরঙ্গা মিছিলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
পুলিশের যুক্তি মানতে নারাজ অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেছেন, "ভারতের পতাকা ওড়াতে কি কোনো অনুমতির প্রয়োজন আছে? তেরঙ্গা শুধু দিল্লি পুলিশের নয়, এই দেশের ১৩০ কোটি মানুষেরও। আমরা যেখানে খুশি পতাকা ওড়াব।" এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের কারণে ব্যবসার ক্ষতি হয় না; ক্ষতি হয় যখন সরকার শহর বন্ধ করে দেয়, ইন্টারনেট স্থগিত করে এবং নাগরিকদের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে।
এই কর্মসূচির সূত্রপাত ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরে সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারের ঘটনা থেকে। ওই দিন সৌরভ দাস, আজিঙ্কা শিন্ডে ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। এর আগে ১২ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ জানায়, যন্তর মন্তরে আর বিক্ষোভ করা যাবে না; কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কমিটির সুপারিশে এই সিদ্ধান্ত। বিকল্প হিসেবে রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ ও পূর্ব দিল্লির সিবিডি-তে কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়।
এদিকে গত সপ্তাহ থেকেই দিল্লি উত্তপ্ত। শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিলেও পুলিশ অনুমতি দেয়নি। বিমান থেকে নামার পরই অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। ধ্রুব রাঠী, মমতা ব্যানার্জী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকার-সহ বহু নেতাকে আটক করা হয়। ১০ ও ১১ অক্টোবর অন্তত তিন হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়; পিটিআই জানায় সাত হাজারেরও বেশি আটক হয়। পুলিশি ধরপাকড় ও হেফাজতে মারধরের অভিযোগও উঠেছে।
শুক্রবারের কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকেই ডিটিসি বাসে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, ৬,০০০ পুলিশ ও আধাসামরিক কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে; ২২০ সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সের ৩০ কোম্পানি তিন শিফটে কাজ করবে, প্রয়োজনে সংখ্যা ৬০-এ বাড়ানো হবে। নজরদারির জন্য ৩০ থেকে ৩৫টি অতিরিক্ত অডিও-ভিডিও ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কনট প্লেসের ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে চিঠি দিয়েছেন।