ডলার দুর্বলতায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে

আন্তর্জাতিক বাজারে ফের স্বর্ণের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দরপতন এবং সরকারি বন্ডের ইল্ড কমে যাওয়ায় গতকাল মূল্যবান ধাতুটির দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। খবর রয়টার্স। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫৬ ডলার ১১ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে মার্কিন ফিউচার মার্কেটে আগামী ডিসেম্বরের চুক্তিতে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৭ ডলার ৮০ সেন্টে বিক্রি হয়।
আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে এদিন ডলারের সূচক কমেছে দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারে নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সস্তা হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদহার কমে তিন সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এই দুই কারণেই স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, বন্ডের প্রকৃত ইল্ড কমে আসা ও স্বর্ণে বিনিয়োগের চাহিদা বজায় থাকায় দাম ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তার এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। ডলার দুর্বল হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কিনতে কম ডলার লাগছে, যা চাহিদা বাড়াচ্ছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি গতকাল অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। এদিন স্পট মার্কেটে রৌপ্যের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৬ ডলার ৬৬ সেন্টে দাঁড়ায়। প্লাটিনামের দাম দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬১১ ডলার ৭৬ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১২৫ ডলার ৩৭ সেন্টে ওঠে।
সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, ডলারের দরপতন ও বন্ড ইল্ড কমার কারণে মূল্যবান ধাতুগুলোর বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। স্বর্ণের দাম বাড়ার সঙ্গে রৌপ্য, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও বেড়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা থাকলে তারা সাধারণত স্বর্ণে বিনিয়োগ করেন, যা দাম বাড়ায়।
ভবিষ্যতে ডলারের গতিবিধি ও বন্ড ইল্ডের ওপর স্বর্ণের দাম নির্ভর করবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তবে আপাতত স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে। এই প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫৬ ডলার ১১ সেন্টে স্থির ছিল।