কারিগরি শিক্ষায় বাংলাদেশ-চীন যৌথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আলোচনা

বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে একটি কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছে। চীনের তিয়াঞ্জিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলনের ফাঁকে দেশটির শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইউছুয়েনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিয়াঞ্জিন মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে এ বৈঠক হয়।
সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা : পরিবর্তনকে একসঙ্গে গ্রহণ, মানদণ্ড গঠন ও ভবিষ্যৎ নির্মাণ’। এতে ৪০টির বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১০০টির বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে। এ ছাড়া ইউনেসকোর প্রতিনিধি, শিল্পখাতের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান এবং বিভিন্ন দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত রয়েছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, যৌথ শিক্ষা কর্মসূচি চালু এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা সরকারি বৃত্তি সম্প্রসারণের বিষয়ও উঠে আসে।
বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ তার জনগণ। মানবসম্পদ উন্নয়ন দেশের অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থান, তাত্ত্বিক জ্ঞানের সঙ্গে বাস্তব প্রয়োগ এবং তরুণদের সম্ভাবনার সঙ্গে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক সুযোগের সংযোগ তৈরি করে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের অর্থনীতির চাহিদা পূরণে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির কারণে বিশ্ব শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে ব্যবহারিক, প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল দক্ষতার সমন্বয় জরুরি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা সংস্কার শুধু নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে পাঠ্যক্রম শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষকরা পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের দক্ষতা হালনাগাদ করবেন এবং শিক্ষার্থীরা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকে হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোর সঙ্গে কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগের সংযোগ তৈরি করা হবে। এর আগে সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী মিলন। এতে তিনি বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকায়ন, শিল্পখাতের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ জোরদার এবং কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরেন।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের শিক্ষামন্ত্রী হুয়াই জিনপেং, দেশটির স্টেট কাউন্সিলের ভাইস প্রিমিয়ার দিং শুয়েশিয়াং, তিয়াঞ্জিনের মেয়র ঝাং গং, মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি এবং ইউনেসকোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।