কুমিল্লার সংঘর্ষের কারণ খতিয়ে দেখবে জামায়াত, অভ্যন্তরীণ কোন্দল না অন্য কিছু তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা

জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা মহানগর কার্যালয় চত্বরে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ঘটনার পেছনে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল নাকি অন্য কিছু আছে, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে। বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনা অভিমুখে লংমার্চ এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব পায় কুমিল্লার ঘটনাটি।
সূত্র জানায়, কুমিল্লার ঘটনাটি জামায়াতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল। এই ঘটনার পেছনে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের চারজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তাঁরা বলেছেন, ঘটনাটি নিয়ে দলের ভেতরে নানা প্রশ্ন উঠেছে এবং এর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দলীয় পর্যায়ে তদন্ত চলবে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নেতারা আরও বলেন, কুমিল্লার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানীকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে দলটি। ঘটনাটিকে জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষ বলা হলেও এর সঙ্গে এবি পার্টির এই নেতার যোগসূত্র কী, সেটি একটি প্রশ্ন। এই বিষয়টিসহ ঘটনার পেছনে আর কে কে রয়েছেন, তা জামায়াতের কেন্দ্র থেকে খতিয়ে দেখা হবে। দলের নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ বলে ঘটনাটি যেভাবে আলোচিত হয়েছে, বিষয়টি ঠিক সে রকম নয়। নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে কুমিল্লার ঘটনার মূলে কী রয়েছে, পেছনে কারা রয়েছেন, এবি পার্টির একজন নেতা কীভাবে যুক্ত হয়েছেন, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গত বুধবার সন্ধ্যায় জামায়াতের কুমিল্লা মহানগর কার্যালয় চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে পরদিন বৃহস্পতিবার এবি পার্টির কুমিল্লা মহানগর আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানীকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় দলটি।
দলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তাঁকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে অবিলম্বে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। কুমিল্লা মহানগর জামায়াত সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় এবি পার্টির নেতা সামদানীকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এদিকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে কুমিল্লার ঘটনার পটভূমি, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।