লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আরিফুল ইসলাম সাময়িক বরখাস্ত

লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. আরিফুল ইসলামকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শরীয়তপুরের সাবেক সিনিয়র সহকারী জজ (পরবর্তীতে ঢাকার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) এবং বর্তমানে লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে কর্মরত জনাব মো. আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭’ এর বিধি ২(ক) ও ২(চ) অনুযায়ী যথাক্রমে ‘অদক্ষতা’ ও ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে একটি বিভাগীয় মামলা (নং ০২/২০২৬) রুজু করা হয়েছে।
অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও অনুসন্ধানের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট পরামর্শ দেয়। সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শের আলোকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ এর বিধি ১১ অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকী ভাতা প্রাপ্ত হবেন এবং এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. খাদেম উল কায়েস।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিচারক মো. আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ দুটি হলো অদক্ষতা ও অসদাচরণ। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭-এর বিধি ২(ক) ও ২(চ)-তে এই অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। বিভাগীয় মামলা নং ০২/২০২৬ হিসেবে এটি রুজু করা হয়েছে। মামলার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট পরামর্শ দিয়েছে যে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও অনুসন্ধানের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা প্রয়োজন। সেই পরামর্শের ভিত্তিতেই মন্ত্রণালয় এই আদেশ জারি করেছে।
সাময়িক বরখাস্তের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি, সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকী ভাতা পাবেন। এই আদেশ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা হয়েছে এবং প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. খাদেম উল কায়েস। উল্লেখ্য, মো. আরিফুল ইসলাম পূর্বে শরীয়তপুরের সিনিয়র সহকারী জজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং পরবর্তীতে ঢাকার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বিভাগীয় মামলা নং ০২/২০২৬-এর ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত ও অনুসন্ধানের স্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিধিমালার বিধি ১১ অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়। এই আদেশের ফলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন এবং খোরাকী ভাতা পাবেন। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্তের এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন মো. খাদেম উল কায়েস, সচিব (রুটিন দায়িত্ব), আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এই ঘটনা বাংলাদেশের বিচার বিভাগের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিধিমালা অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রজ্ঞাপনে শুধু সাময়িক বরখাস্তের কথা বলা হয়েছে, চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের উল্লেখ নেই।