শামীম হত্যাকাণ্ডে জামায়াতকে জড়ানোর চেষ্টার অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীম হত্যাকাণ্ডে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতে ইসলামীকে জড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই অভিযোগ করেন এবং এর তীব্র নিন্দা জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
গোলাম পরওয়ার জানান, ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছে জামায়াত। তিনি বলেন, তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতে ইসলামীকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হলে তার বিচার করার দায়িত্ব আইন ও আদালতের। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা কাউকে গণপিটুনি দিয়ে বিচারবহির্ভূতভাবে শাস্তি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জামায়াত এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না।
অপরাধের প্রকৃত তথ্যপ্রমাণ যাচাই না করে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকে দায়ী করা হলে প্রকৃত ঘটনা আড়াল হয়ে যেতে পারে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা অনভিপ্রেত।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের শনাক্তকরণ এবং নিহত ব্যক্তির পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রচার না করার অনুরোধ করছি।
উল্লেখ্য, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দফায় দফায় পিটুনিতে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। প্রথম দফায় পিটুনির পর তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। রাতে সেখান থেকে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় মারধর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শামীমকে মারধরের খবর পেয়ে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় পুলিশ। রাত ৮টা ৪০ মিনিটে একদল লোক হাসপাতালে ঢুকে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে আবার মারধর করে। পরে সাতক্ষীরায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত শামীম দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।