বাংলাদেশ • শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬সত্যের পথে, প্রতিদিন
এ আই নিউজ

দেশের খবর, বিশ্বের খবর
আপনার প্রতিদিনের সংবাদ

বিশ্ব

দুর্গাপূজা ঘিরে প্রতিমা ভাঙচুরের পুনরাবৃত্তি: নিরাপত্তা ও উদ্বেগ

দুর্গাপূজা ঘিরে প্রতিমা ভাঙচুরের পুনরাবৃত্তি: নিরাপত্তা ও উদ্বেগ
এ আই নিউজ

আসছে দুর্গাপূজা। মহালয়ার মধ্য দিয়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে দেবীপক্ষের। উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে সারা দেশে। এ বছর মণ্ডপের সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে এবং সরকারের অনুদানও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু প্রতি বছরের মতোই পূজার সঙ্গে এসেছে প্রতিমা ভাঙার খবরও। এই ঘটনাগুলো উৎসবের আনন্দকে ম্লান করে দিচ্ছে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতিতে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। প্রশ্ন উঠছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে?

পূজা ঘিরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা কী ভাবছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের অভিযোগ, প্রতিমা ভাঙচুর যেন একটি পুনরাবৃত্ত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ রয়েছে। তারা বলছেন, এটা তাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। এমন মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি ধারা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ফলে উৎসবের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, সিসিটিভি নজরদারি এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে। কারণ গত বছরগুলোতেও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এবং অপরাধীরা অনেক সময় ধরা পড়েনি। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বলছেন, শুধু নিরাপত্তা বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাদের মতে, সামাজিক সচেতনতা ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতা জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। তারা চান, প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা হোক। পাশাপাশি উৎসবের সময় সবাই যেন নিরাপদে পূজা করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে পূজা কমিটি ও আয়োজকদের মধ্যে উদ্বেগ কাজ করছে। তারা বলছেন, প্রতিমা তৈরিতে অনেক শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়। ভাঙচুর হলে তা তাদের জন্য বড় ক্ষতি। অনেক কমিটি বাড়তি নিরাপত্তার জন্য নিজেদের মতো করে ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু সব জায়গায় তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ছোট মণ্ডপগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের দাবি, প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

সর্বোপরি, দুর্গাপূজা সবার উৎসব। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাগুলো তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তানহা তাসনিমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রচ্ছদে ফিরুন ←