দুদকের মামলার অনুমোদন: সাবেক এমপি রশীদুজ্জামানের বিরুদ্ধে সম্পদ অনুসন্ধান ও সংসদ ভবনের শব্দযন্ত্র দুর্নীতির তদন্ত চলছে

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. রশীদুজ্জামান মোড়লের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিবৃতিতে দুদক মহাপরিচালক নাজমুল হাসান এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় সংসদ ভবনের শব্দযন্ত্র মেরামত ও স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধানের অগ্রগতিও তুলে ধরেন।
দুদক জানায়, রশীদুজ্জামান মোড়ল ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে খুলনা-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আসনটি খুলনার কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৬ অক্টোবর পটুয়াখালীর মহিপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। সে সময় র্যাব জানিয়েছিল, সহিংসতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের তিনটি মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। এবার তার বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
তবে তার বিরুদ্ধে কত টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে, তা ব্রিফিংয়ের দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি। সংসদের শব্দযন্ত্র নিয়ে দুর্নীতির অনুসন্ধান প্রসঙ্গে দুদক জানায়, জাতীয় সংসদ ভবনের প্লেনারি হলে স্থাপিত শব্দযন্ত্র পরিচালনা, মেরামত ও সংস্কারের নামে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগে চলমান অনুসন্ধান চলছে। এ অভিযোগে কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহিদুর রহিম জোয়ারদারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে।
দুদকের অভিযোগ, জাতীয় সংসদের শব্দযন্ত্র পরিচালনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। এর আগে গত ৯ এপ্রিল দুদক জানিয়েছিল, সংসদ ভবনের শব্দযন্ত্রের অনিয়ম নিয়ে ১৩ জানুয়ারি অনুসন্ধান শুরু হয়। এ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় সংস্থাটির সহকারী পরিচালক প্রবীর কুমার দাসকে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাছে দরপত্র, ব্যয়ের হিসাব, বিল-ভাউচার, নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের তথ্য চায় দুদক।
নির্ধারিত সময়ে নথি না পাওয়ায় গত ৭ এপ্রিল আবারও তাগিদ দেওয়া হয়। দুদকের আগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষের এসআইএস (সাউন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেটি সচল করতে উদ্যোগ নেয় গণপূর্ত অধিদপ্তর। কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড শব্দযন্ত্রটি পরীক্ষা করে মেরামতের মাধ্যমে চালু করা সম্ভব বলে মত দেয়। এ জন্য প্রায় ৯ কোটি ৪ লাখ টাকার ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়। প্রকৌশলীদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও সম্মানী বাবদ আরও ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা চেয়ে আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি।
গত ১৬ এপ্রিল এসব অভিযোগে জাহিদুর রহিম জোয়ারদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। সেদিন সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেন, বিদ্যুতের তারের সংযোগ ঢিলা হয়ে যাওয়ায় সংসদের শব্দযন্ত্রে বিভ্রাট ঘটছিল। সংস্কারকাজের প্রথম ধাপে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের কারিগরি অভিজ্ঞতার ঘাটতিকেও দায়ী করেন তিনি। অন্যদিকে সাবেক এমপি রশীদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেওয়া হলেও তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ সম্পর্কে দুদক কিছু জানায়নি।