বাংলাদেশ • শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬সত্যের পথে, প্রতিদিন
এ আই নিউজ

দেশের খবর, বিশ্বের খবর
আপনার প্রতিদিনের সংবাদ

বিশ্ব

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মারধরের শিকার শামীমের মৃত্যু, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মারধরের শিকার শামীমের মৃত্যু, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা
এ আই নিউজ

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দফায় দফায় মারধরের শিকার হয়ে মারা গেছেন ওয়াহিদুজ্জামান শামীম। মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হয়। বুধবার গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম শাহীন জানান, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শামীমের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে মারধর করছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন এবং শামীমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ওসি এইচ এম শাহীন আরও বলেন, রাত সাড়ে আটটায় উত্তেজিত জনতা—যে নামেই হোক—আবার এসে মারধর করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা মেডিক্যালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামীমকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে নিহতের পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে শামীমকে হত্যা করা হয়েছে। শামীমের ছোট ভাই তাওছিফ রহমান সাগর বলেন, উসকানিমূলক একটি ভিডিও দিয়ে মানুষকে তার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে মারা হয়েছে।

শামীমকে মানসিক ভারসাম্যহীন দাবি করে সাগর বলেন, আইন যদি তাকে শাস্তি দিত তাহলে আমরা মেনে নিতাম। কিন্তু আমার ভাইকে এভাবে বিনা বিচারে পিটিয়ে মারবে কেন? তিনি জানান, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সোমবার প্রথম দফায় শামীমের বাড়িতে হামলা করা হয়। এসময় স্থানীয় জামায়াতের একদল নেতাকর্মী লোকজন জড়ো করে মব সৃষ্টি করে বলে দাবি করেন তিনি। তবে স্থানীয় জামায়াত নেতা কামরুল ইসলাম গাজী সেই দাবি অস্বীকার করেন।

কামরুল ইসলাম গাজী বলেন, ডাক্তারের চেম্বারের পাশে সাধারণ মানুষ তাকে মারধর করে, এই পর্যন্ত আমরা জানি। জামায়াতের কেউ ছিল কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, না, এলাকার সবাই ছিল। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তবে আজকের মধ্যেই পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন নিহত শামীমের ছোট ভাই সাগর।

তাওছিফ রহমান সাগর জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে অনার্স-মাস্টার্স করেছিলেন শামীম। বেশ কয়েক বছর আগে বাসে যাতায়াতের সময় অজ্ঞান পার্টির লোকজন তাকে কিছু একটা খাইয়ে দিলে পরিবারের সদস্যরা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। চিকিৎসা নেওয়ার পর শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও মাঝেমধ্যে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত আচরণ করতেন শামীম। এ কারণে তার প্রথম সংসার ভেঙে যায় বলেও জানান সাগর।

সেই ঘরে তার আট বছরের একটি ছেলে আছে। পরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন শামীম। সেই সংসারে সাগরের সাত মাসের আরেকটি ছেলে রয়েছে। মবের ঘটনার সূত্রপাত হয় সোমবার। পরিবার বলছে, সেদিন স্ত্রীর সঙ্গে শামীমের পারিবারিক কলহ হয়। এসময় পাড়া-প্রতিবেশীদের কেউ কেউ শামীমকে উসকে দেয় এবং শামীমের বলা কথা রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেয় বলে দাবি করেন সাগর। অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়লে দলবদ্ধ লোকজন তাদের বাড়িতে হামলা-ভাংচুর চালায়।

প্রচ্ছদে ফিরুন ←