বাংলাদেশ • শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬সত্যের পথে, প্রতিদিন
এ আই নিউজ

দেশের খবর, বিশ্বের খবর
আপনার প্রতিদিনের সংবাদ

আইন ও আদালত

রামপুরা হত্যা মামলায় সাক্ষী: গুলিতে স্বামীর মাথার খুলি উড়ে গিয়েছিল, লাশ নিয়ে যেতে বাধা দিয়েছিল পুলিশ-বিজিবি

রামপুরা হত্যা মামলায় সাক্ষী: গুলিতে স্বামীর মাথার খুলি উড়ে গিয়েছিল, লাশ নিয়ে যেতে বাধা দিয়েছিল পুলিশ-বিজিবি
এ আই নিউজ

জুলাই আন্দোলনে গুলিতে নিহত মো. ইসমাইলের স্ত্রী লাকি বেগম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে তিনি ১৬তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন। ৩৮ বছর বয়সী লাকির গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুর উপজেলায়, বর্তমানে রাজধানীর রামপুরায় বসবাস করেন।

লাকি বেগম জবানবন্দিতে বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে অটোরিকশা চালানোর জন্য বাসা থেকে বের হন ইসমাইল। মাগরিবের নামাজের সময় তার ছেলের বন্ধু এসে খবর দেয় যে ডেলটা কেয়ার হাসপাতালের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইসমাইল মারা গেছেন। খবর শোনার পর তিনি ও তার ছেলে অজ্ঞান হয়ে যান। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে দেখেন প্রতিবেশী একজনের সহায়তায় ভ্যানে করে স্বামীর মরদেহ বাসায় আনা হয়েছে। তিনি জানান, মাথায় গুলি লাগায় ইসমাইলের মাথার খুলি ছিন্নভিন্ন হয়ে মগজ বেরিয়ে গিয়েছিল এবং সারা শরীর রক্তাক্ত ছিল।

তিনি আরও বলেন, মৃত স্বামীর মাথা ব্যান্ডেজ করার জন্য তারা বেটার লাইফ হাসপাতালে নিয়ে যান, কারণ ব্যান্ডেজ না করে দেহ নড়াচড়া করা যাচ্ছিল না। বেটার লাইফ হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় লাশ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া যাচ্ছিল না। পরে তার দেবর বাড়ি থেকে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে বেটার লাইফ হাসপাতালে আসেন। এরপর তিনি, তার ছেলে ও নিকটাত্মীয়রা লাশ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

ইসমাইলের স্ত্রী জানান, লাশ নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা তাদের নানাভাবে হেনস্তা করেন এবং অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখেন। ইসমাইল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বলে মিথ্যা কথা বলার পর তারা গ্রামে যেতে দেন। তিনি বলেন, ২০ জুলাই স্বামীর লাশ গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে তার স্বামী নিহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে লাকি বেগম স্বামী হত্যার বিচার দাবি করেন। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও মামুনুর রশিদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার, মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর। রামপুরা হত্যাকাণ্ডের এ মামলায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

সাক্ষীর জবানবন্দিতে উঠে আসে, গুলিবিদ্ধ ইসমাইলের মাথার খুলি ছিন্নভিন্ন হয়ে মগজ বেরিয়ে গিয়েছিল এবং লাশ নড়াচড়া করা যাচ্ছিল না। ব্যান্ডেজ করার পরই কেবল লাশ পরিবহন সম্ভব হয়। অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার পথে পুলিশ-বিজিবির বাধা ও হেনস্তার শিকার হতে হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ট্রাইব্যুনালে এ মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে।

প্রচ্ছদে ফিরুন ←