বাংলাদেশ • শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬সত্যের পথে, প্রতিদিন
এ আই নিউজ

দেশের খবর, বিশ্বের খবর
আপনার প্রতিদিনের সংবাদ

আইন ও আদালত

রামপুরা হত্যা মামলায় রেদোয়ানসহ চারজনের বিরুদ্ধে ১৬ সাক্ষীর সাক্ষ্য সম্পন্ন, পরবর্তী শুনানি ২৮ অক্টোবর

রামপুরা হত্যা মামলায় রেদোয়ানসহ চারজনের বিরুদ্ধে ১৬ সাক্ষীর সাক্ষ্য সম্পন্ন, পরবর্তী শুনানি ২৮ অক্টোবর
এ আই নিউজ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চ পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৮ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ট্রাইব্যুনালে আজ ১৬তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী লাকি বেগম। তার স্বামী রিকশাচালক ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর ডেলটা কেয়ার হাসপাতালের সামনে পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে মারা যান ইসমাইল। এ সময় স্বামীকে হত্যার জন্য মামলার চার আসামিকে দায়ী করে বিচার চান লাকি।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও মামুনুর রশিদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার, মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর। চার আসামির মধ্যে বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে আছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম।

পলাতকরা হলেন- ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রামপুরায় ২৮ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে চারজনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আগামী ২৮ অক্টোবর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এদিন পর্যন্ত মোট ১৬ জন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ আরও সাক্ষী উপস্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের বক্তব্য রাখবেন। ট্রাইব্যুনাল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সব পক্ষকে শুনানির সুযোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এ মামলাটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। রামপুরা এলাকায় ২৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। নিহতদের পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিচার দাবি করে আসছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই মামলার বিচার পরিচালনা করছে এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে রায় ঘোষণা করবে।

সাক্ষীরা তাদের জবানবন্দিতে ঘটনার দিনের পরিস্থিতি, গুলিবর্ষণ এবং আসামিদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। প্রসিকিউশন পক্ষ মনে করছে, এই সাক্ষ্যগুলো মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। আসামিপক্ষ এখনো তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেনি। আগামী শুনানিতে আরও সাক্ষী উপস্থিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটররা।

প্রচ্ছদে ফিরুন ←