পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ জনের মৃত্যু, আহত ১৯

পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে অন্তত ২৭ জন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় একটি হাসপাতালের মুখপাত্র। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারের দির কলোনি এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনা ঘটে। স্কুলটির নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি এবং নিহত শিক্ষক ও শিশুদের পরিচয়ও এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি। উদ্ধারকর্মীদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও শিশু ও মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারে; তাই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয় লেডি রিডিং হাসপাতালের (এলআরএইচ) মুখপাত্র মুহাম্মদ আসিম এক বিবৃতিতে বলেছেন, এ ঘটনায় আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আসিম আরও জানান, বেশিরভাগ শিশুই মাথায় আঘাত পেয়েছে। অনেক অভিভাবক হাসপাতালে এসে জড়ো হয়েছেন এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশের সহায়তা চেয়েছে। মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের বয়স ছয় থেকে ১২ বছরের মধ্যে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর এলআরএইচে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, "এই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে পুরো জাতি স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে।" প্রেসিডেন্ট নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট "আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন"। এছাড়া তিনি ঘটনার কারণ নির্ধারণে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছেন।
পেশোয়ারের দির কলোনি এলাকায় এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করার পাশাপাশি তাদের সম্ভাব্য সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রাদেশিক গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন।
এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, ছাদের নিচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছাদের অতিরিক্ত ওজন বা নির্মাণ ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।