বাংলাদেশ • শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬সত্যের পথে, প্রতিদিন
এ আই নিউজ

দেশের খবর, বিশ্বের খবর
আপনার প্রতিদিনের সংবাদ

আইন ও আদালত

পিএসসি প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের আলোচিত আবেদ আলী জীবনের ছেলে সিয়ামের ৪ বছরের কারাদণ্ড

পিএসসি প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের আলোচিত আবেদ আলী জীবনের ছেলে সিয়ামের ৪ বছরের কারাদণ্ড
এ আই নিউজ

জ্ঞাত আয়ের বাইরে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অবসরপ্রাপ্ত গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি.এম. তারিকুল কবীরের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী জানান, কারাদণ্ডের সঙ্গে আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

প্রসিকিউটরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিয়ামের অবৈধভাবে অর্জিত ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সিয়াম পিএসসি প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে। তিনি একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

সিয়ামের বিরুদ্ধে গত বছরের ৫ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। মামলায় ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর সিয়ামকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন উপ-সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। তদন্তে সিয়ামের জ্ঞাত আয় উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পান এই কর্মকর্তা।

এর আগে গত ১৭ জুন এই মামলায় সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় একই আদালত। মামলাটিতে ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সব সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটল।

উল্লেখ্য, সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তিনি ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে জ্ঞাত আয়ের বাইরে ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। তদন্তে অবশ্য ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যায়, যা বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের পাশাপাশি সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী রায়ের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই সাজা দিয়েছেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এই মামলাটি দুদকের দায়ের করা একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি পিএসসি প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের সূত্রে করা হয়েছিল।

প্রচ্ছদে ফিরুন ←