বাংলাদেশ • শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬সত্যের পথে, প্রতিদিন
এ আই নিউজ

দেশের খবর, বিশ্বের খবর
আপনার প্রতিদিনের সংবাদ

বিশ্ব

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে ৫০ জনের বেশি বাংলাদেশির মৃত্যু, পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন ফেরানোর পরিকল্পনা

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে ৫০ জনের বেশি বাংলাদেশির মৃত্যু, পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন ফেরানোর পরিকল্পনা
এ আই নিউজ

রাশিয়ায় ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি তরুণদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং পরে ফাঁদে ফেলে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানো হয়েছে। পুলিশের গোয়েন্দা সূত্রের ধারণা, গত চার বছরে রুশ বাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে ৫০ জনের বেশি বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিরাপদ অভিবাসন নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা আশঙ্কা করছেন, নিহতের সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০ পর্যন্ত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়ায় বেসামরিক কাজের কথা বলে নিয়ে যাওয়া ৩০ বাংলাদেশিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ১৭ জনই একটি ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান। দুজন পালিয়ে দেশে ফিরে চিকিৎসা নিয়েছেন, দুজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ছয়জন এখনো যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জন বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন— তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালে পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার পর সেই সুযোগ নিয়ে একটি চক্র মোটা টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট করিয়ে দিচ্ছে, যা উদ্বেগ তৈরি করেছে। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়া ঠেকাতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে পাসপোর্টের আবেদন যাচাইয়ে পুলিশ ভেরিফিকেশন আবার চালুর কথা ভাবছে সরকার। ওই সিদ্ধান্তের আগে কক্সবাজার অঞ্চলে পাসপোর্টের আবেদন যাচাইয়ে বাড়তি সতর্কতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ ওঠেছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অসাধু কর্মকর্তা ও দালালদের সঙ্গে মিলে সক্রিয় একটি চক্র রোহিঙ্গাদের এনআইডি ও পাসপোর্ট করিয়ে দিচ্ছে। রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির থেকে শুরু করে চক্রটির বিস্তার কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।

অর্থনীতির ক্ষেত্রে, প্রবৃদ্ধি কম, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির দুর্বলতার এক দুষ্টচক্রে আটকা পড়েছে বাংলাদেশ। কার্যকর প্রশাসনিক সংস্কার ছাড়া এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয় বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩১ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে ধীরগতির অর্থনীতির দেশ হতে পারে বাংলাদেশ। সংস্থাটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার কমে তিন দশমিক দুই শতাংশে নেমে আসতে পারে এবং ২০২৮ অর্থবছরে তা সর্বনিম্ন দুই দশমিক দুই শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এরপর ২০৩১ অর্থবছর নাগাদ প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে প্রায় তিন শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই পূর্বাভাস অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রকাশিত পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত কাঠামোর সম্পূর্ণ বিপরীত; যেখানে ২০৩১ অর্থবছর নাগাদ আট দশমিক পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই সাথে চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ১০.৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে শঙ্কা করছে আইএমএফ। যা গত ১৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেছেন, আইএমএফ যে প্রাক্কলন করেছে, তা ভিত্তিগত পূর্বাভাস। সরকার যদি ব্যাংক, জ্বালানি ও ব্যবসা— এই তিনটি খাতে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কার করতে ব্যর্থ হয়, তবেই এই পরিস্থিতি বাস্তবে রূপ নিতে পারে। এদিকে, বেসরকারি ব্যাংকে পরিবারতন্ত্রের প্রভাব কমাতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিল, তার কয়েকটি থেকে সরে আসছে বর্তমান সরকার। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, বর্তমানে একই পরিবার থেকে তিনজন সদস্য একই সময়ে কোনো ব্যাংকের পরিচালক থাকতে পারেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাংক এই সংখ্যা কমিয়ে দুজন করার প্রস্তাব করে। তবে, ব্যাংকমালিকদের চাওয়া অনুযায়ী, একই পরিবারের তিনজনকে ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, একজন পরিচালকের মেয়াদ টানা ছয় বছরে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। বর্তমান আইনে একজন ব্যক্তি একই ব্যাংকের পরিচালক পদে একটানা ১২ বছর থাকতে পারেন। এক্ষেত্রে নয় বছর করতে চায় সরকার। ঋণখেলাপি পরিচালকদের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান থাকছে না।

চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসনে গত ১৫ বছরে পাঁচটি প্রকল্প হাতে নেয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এসব প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই এবার অক্সিজেন মোড়ে প্রায় দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি শিগগিরই অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা রয়েছে। প্রস্তাবিত উড়াল সড়কটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর একটি র‍্যাম্প বায়েজিদ থেকে হাটহাজারী সড়কের সঙ্গে এবং অন্যটি কুয়াইশ সড়কের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নির্মিত উড়াল সড়কগুলোর কোথাও সংযোগ সড়ক ও র‍্যাম্পের ঘাটতি, কোথাও নিচের সড়কে যানজট, আবার কোথাও ব্যয় বৃদ্ধি ও দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের অভিযোগ, এসব অবকাঠামো নির্মাণের ফলে বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) ও মাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) চালুর সুযোগও সংকুচিত হয়েছে। তাদের মতে, শুধু উড়াল সড়ক নির্মাণ করে যানজটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; প্রয়োজন সমন্বিত সড়ক ও গণপরিবহন ব্যবস্থা।

দেশের অর্থনীতি নিয়ে নানা নেতিবাচক পূর্বাভাসের মধ্যেও স্বস্তির জায়গা রেমিট্যান্স। কিন্তু সেই স্বস্তির জায়গাতেও ঝুঁকি তৈরি করেছে সৌদি আরবের বর্তমান সংকট। দেশটিতে হুতিদের হামলা-পাল্টাহামলার ঘটনায় বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। রিয়াদে বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় গভীর উদ্বেগে রয়েছেন সৌদিগামী প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি কর্মী। তাদের অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে চাকরি হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে। শ্রমবাজার বিশ্লেষক ও খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে একদিকে বিদেশে কর্মী পাঠানোর সুযোগ সংকুচিত হতে পারে, অন্যদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহেও চাপ তৈরি হতে পারে। উল্লেখ্য যে, গত অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে দেশে রেমিট্যান্স আসার হার ১৬ দশমিক ১৩ শতাংশ।

প্রচ্ছদে ফিরুন ←