শিক্ষামন্ত্রী তিন দিনের চীন সফরে, সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন তিন দিনের সফরে চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চীনের পথে রওনা হন। সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠেয় ‘বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলন ২০২৬’-এ অংশগ্রহণ করা। এ ছাড়া ‘বিশ্ব বৃত্তিমূলক কলেজ দক্ষতা প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর চূড়ান্ত পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মন্ত্রীর।
সফরকালে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে চীনের সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন শিক্ষামন্ত্রী। ওই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরেরও কথা রয়েছে। শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণই এই আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে বলে জানা গেছে। মন্ত্রীর এই সফরকে দুই দেশের শিক্ষা সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঢাকা ছাড়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কাউন্সিলর লি শাওপেং উপস্থিত ছিলেন। তার এই উপস্থিতি সফরের কূটনৈতিক গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। মন্ত্রী বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো মন্তব্য করেছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে সূত্র বলছে, সফরটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিন দিনের এই সফরে শিক্ষামন্ত্রী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। বিশ্ব সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন এবং কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ ও দক্ষতা উন্নয়নের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে দেশের শিক্ষা খাতের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।
উল্লেখ্য, ‘বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলন ২০২৬’ এবং ‘বিশ্ব বৃত্তিমূলক কলেজ দক্ষতা প্রতিযোগিতা ২০২৬’—দুটি অনুষ্ঠানই তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মন্ত্রী। এই দুই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্ত্রীর সফরসূচিতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকায় দুই দেশের শিক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সফর শেষে মন্ত্রী দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে। তবে ঠিক কখন তিনি ঢাকায় ফিরবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সফর সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ পরে জানানো হতে পারে।