এসওসিএল প্রধান নির্বাহীর বিরুদ্ধে বয়স জালিয়াতির মামলা, আদালতের সমন

স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (এসওসিএল) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে বয়স জালিয়াতি করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছেন এক কর্মচারী নেতা। মামলাটি আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত অর্থাৎ তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে মামলার আবেদন করেন এসওসিএলের কর্মচারী ও এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি কায়সার হামিদ। আদালত তিনটি ধারায় মামলাটি আমলে আসামির বিরুদ্ধে সমন দেন।
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, আবেদনকারী কায়সার হামিদের অভিযোগটি পাওয়া গেল। আবেদনকারী ৪২০, ৪০৬, ৪০৯, ৪৬৫, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৫০৬ (২) ধারার বিধানমতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগটি আনয়ন করেছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারার বিধান মতে আবেদনকারীকে হলফান্তে পরীক্ষা করা হলো। আনীত অভিযোগের উপাদান বিদ্যমান থাকায় আসামি মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৪০৬, ৪২০, ৫০৬ (২) ধারায় অভিযোগটি আমলে নেওয়া হলো। এটি সিআর মামলা হিসেবে রেজিস্ট্রিভুক্ত করা হোক। আসামির বিরুদ্ধে সমন ইস্যু করা হোক। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি সমন ফেরতের তারিখ।
এর আগে মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৯ সালে বিপিসির উপব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) পদে নিয়োগের সময় সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল ৩৩ বছর। তবে ওই সময় মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদের বয়স ছিল ৩৬ বছর ৪ মাস ২১ দিন। এ ছাড়া নিয়োগের সময় দাখিল করা তার অভিজ্ঞতার সনদও জাল বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী। ২০০৯ সালে বয়স গোপন করে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে ওই কর্মকর্তা নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে সরকারের কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগও রয়েছে। বাধ্য হয়েই বাদী আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপসচিব ড. মোহাম্মদ রুবায়েত খান ওই কর্মকর্তার বয়স জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করে ছয় পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে তার বয়স ৩৬ বছর ২ মাস ২০ দিন উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তা নিজের দায় এড়াতে পারবেন না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়। তবে এরপর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এদিকে, ২০২১ সালে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এসওসিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনাস্থা জানান। দুজন পরিচালকও তার বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এসব অভিযোগ তদন্তে দুদক থেকে নির্দেশনা দেওয়া হলেও সেগুলোর তদন্ত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এর প্রতিবাদে গত ৪ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টায় এসওসিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
সম্প্রতি এসওসিএলের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ ওমরাহ পালনের জন্য গেলে গত ১ অক্টোবর মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদকে ১৫ দিনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০০৯ সালে বিপিসির উপব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) পদে যোগ দেওয়া মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ গত ১৭ বছরে চার দফায় পদোন্নতি পেয়ে মহাব্যবস্থাপক হয়েছেন। মামলার বিষয়ে এসওসিএলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা বলেন, আমরা এখনো এ ধরনের আদেশ হাতে পাইনি। এ কারণে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।